উদ্দীপকে মিশু কোনো শব্দ শুনতে পায় না। সে শ্রবণ প্রতিবন্ধী উদ্দীপকে সুপ্তির বুদ্ধাংক ৪০ এর নিচে। অর্থাৎ, সে একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।
যারা কানে শোনে না তাদের শ্রবণ প্রতিবন্ধী বলা হয়। কান ও শ্রবণ পরিবাহী অঙ্গের কোনো প্রকার গঠনগত শব্দ শুনতে পায় না। বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতা হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতা, বুদ্ধি বিকাশে ধীরগতি, শিক্ষা গ্রহণে অক্ষমতা এবং সামাজিক ও আচরণগত সামঞ্জস্য বিধানের অভাব।
শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাপদ্ধতি হলো-
শ্রবণ-মৌখিক ভাববিনিময় পদ্ধতি: মৌখিকভাব বিনিময়ের জন্য ঠোঁটের নড়াচড়া দেখে বা কিছুমাত্র শব্দ শুনে কথা বুঝতে পারা এবং ঠোটের নড়াচড়ার মাধ্যমে কথা বলা এ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। ম্যানুয়াল ভাব বিনিময় পদ্ধতি: ভাববিনিময়ের জন্য এ পদ্ধতিতে হাতের ইশারার মাধ্যমে শব্দ বা বাক্যাংশ কিংবা আঙ্গুলের সাহায্যে বর্ণ প্রদর্শন করা হয়।
কম্পিউটারভিত্তিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি: অনেক বিশেষজ্ঞ মাইক্রো কম্পিউটার ব্যবহার করে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদানের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের বুদ্ধির মাত্রা অনুসারে শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার জন্য শিক্ষককে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট অংশে ভাগ করে প্রতিটি শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট অংশে ভাগ করে বর্ণনা দিয়ে বোঝাতে হবে। গুরুতর মাত্রার বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের নিজের হাতে খাবার খাওয়া, পোলাক পরা, টয়লেট করা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। উপকরণগুলো উজ্জ্বল রঙের এবং অল্পদামের হতে হবে। এ ধরনের শিশুদের খেলার মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করতে হবে। বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা যাতে সাধারণভাবে জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয দক্ষতাগুলো অর্জন করতে এবং বিভিন্ন কর্ম পরিবেশে সেগুলো ব্যবহার করতে পারে এজন্য তাদের সহায়তা করতে হবে।
উদ্দীপকে মিশু কোনো শব্দ শুনতে পায় না। তাকে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের উপযোগী শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যদিকে সুপ্তির বুদ্ধাংক ৪০ এর নিচে। অর্থাৎ, সে গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। সুপ্তিকে গুরুতর মাত্রার বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের উপযোগী শিক্ষা দানের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়— মিশু ও সুপ্তির জন্য ভিন্ন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।