রুমা শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে মায়ের দুধের গুণাগুণ সম্পর্কে জেনেছে।
মেয়েকে বুকের দুধ পান না করিয়ে বোতলের দুধ পান করায়। কিছুদিন পর তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে তিনি রুমাকে বলেন যে, শিশুর বৃদ্ধির জন্য মায়ের দুধে সব রকমের পুষ্টি উপাদান যথা- গ্লুকোজ, প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে এবং ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর জন্য মায়ের দুধই সুষম খাদ্য।
মায়ের বুকের শালদুধে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও রোগ প্রতিরোধকারী প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি থাকে।শিশুর জন্য মায়ের দুধ আদর্শ খাদ্য। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে থেকেই মায়ের দেহে দুধ উৎপাদন ও ক্ষরণের প্রস্তুতি চলে। প্রসবের পর প্রথম ২/৩দিন মায়ের স্তন হতে হালকা হলুদ রঙের ঘন, আঠালো দুধ বের হয়। একে শালদুধ বা Colostrum বলে।শিশুর বৃদ্ধির জন্য মায়ের দুধে সব রকমের পুষ্টি উপাদানই আছে এবং ৬ মাস বয়স পর্যন্ত তা শিশুর জন্য সুষম খাদ্য। মায়ের দুধ বিশুদ্ধ ও টাটকা। এর প্রোটিন মিহি ও সূক্ষ্ম দানার হয় যা সহজেই হজম হয়। মায়ের দুধে ল্যাকটোজের পরিমাণ বেশি থাকায় দুধ মিষ্টি হয়। এতে অসম্পৃক্ত স্নেহজ এসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। যা শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এছাড়া এর প্রধান উপকারিতা হচ্ছে এতে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি (antibody) এবং ইমিউনোগ্লোবিন (immunoglobulin) থাকে, যা শিশুকে নানা রোগ হতে রক্ষা করে। মায়ের দুধে লালিত শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, পেটের অসুখ বা এলার্জি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এছাড়া দুগ্ধদানকারী মায়ের জরায়ু ও স্তনের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। এ সকল কারণে সীমা তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ায়।