ছক '২' উচ্চরক্তচাপ এবং ছক '৩' জন্ডিস রোগকে নির্দেশ করছে। ছক '২' এ উল্লিখিত রোগের লক্ষণগুলো মাথায় ও ঘাড়ে যন্ত্রণা, দুর্বল অনুভূত হওয়া। এ লক্ষণগুলো উচ্চ রক্তচাপের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর ছক '৩' এ উল্লিখিত রোগের লক্ষণগুলো হলো পরিপাকে সমস্যা, প্রসাবের রং পরিবর্তন, যা জন্ডিস রোগকে নির্দেশ করে। উচ্চরক্তচাপ ও জন্ডিস রোগের পথ্য পরিকল্পনা ভিন্ন হয়ে থাকে।
উচ্চ রক্তচাপে ক্যালরি ও স্নেহের পরিমাণ কমাতে হবে। তবে প্রোটিনের পরিমাণ ঠিক রাখা যায়। এ রোগে লবণের পরিমাণ কমাতে হবে । যেসব খাবারে সোডিয়াম বেশি থাকে, সেগুলো বাদ দিতে হবে। এছাড়া বেশি মসলাযুক্ত খাদ্য, পানীয় যেমন— চা, কফি, মদ ইত্যাদি পরিহার করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ঘি, মাখন, মগজ, কলিজা, দুধের সর বর্জন করা উচিত। তবে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য শাকসবজি, ফল, সামুদ্রিক মাছের তেল ইত্যাদি গ্রহণ করা উচিত। এছাড়াও প্রচুর তরল খাদ্য ও পানি গ্রহণ করা উচিত।
অন্যদিকে জন্ডিস রোগীকে উচ্চ জৈব মূল্যের প্রোটিন জাতীয় খাদ্য দিতে হবে। হালকা তেল ও মসলা দিয়ে রোগীর খাবার রান্না করতে হবে। জন্ডিসের রোগীকে প্রচুর পানি, বিশেষ করে ডাবের পানি খাওয়ানো উচিত। আখ, বাতাবি লেবুসহ অন্যান্য ফলের রসও খাওয়ানো দরকার। চিনি, গুড় বা মধুর পরিবর্তে গ্লুকোজের ব্যবস্থা করা ভালো। রোগীর রুচি ও হজমশক্তির উন্নতির সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের খাবার যোগ করা যায়। যেমন— সুজি, ননীতোলা দুধ, নরম সিদ্ধ আটার রুটি, ভাত, আলু, গুড়, চিনি, মধু, পুডিং, পায়েস, ফল, ফলের রস, সবজি স্যুপ, মাছ, মুরগির ঝোল ইত্যাদি।