উদ্দীপকের লক্ষণগুলো আমার বন্ধুর মধ্যে দেখা দিলে তার জণ্ডিস হয়েছে মনে করে তার জন্য পথ্য পরিকল্পনা করতে হবে।
অসুস্থ হলে স্বাভাবিকভাবে খাদ্য গ্রহণ ব্যাহত হয়। ফলে শরীরে পুষ্টি উপাদানের অভাব ঘটে। এক্ষেত্রে রোগীকে উপযুক্ত পথ্য সরবরাহ করে পুষ্টির অভাব পূরণ করতে হবে। রোগ অনুসারে পথ্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হয়। জন্ডিসের লক্ষণ হলো- জ্বর, অরুচি, বমিভাব, ওজন হ্রাস পাওয়া, মৃদু বা তীব্র পেট ব্যথা, মূত্রের রং এবং চোখ ও ত্বক হলুদ বর্ণ ধারণ করা।
জন্ডিসের পথ্য ব্যবস্থাপনার প্রধান লক্ষ্য হলো— যকৃতের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো পুনরুৎপাদন। জন্ডিসে আক্রান্ত আমার বন্ধুকে উচ্চ জৈব মূল্যের প্রোটিন (যেমন- ডিম, দুধ, পনির ইত্যাদি) জাতীয় খাদ্য দিতে হবে। তার জন্য হালকা তেল ও মসলা দিয়ে খাবার রান্না করতে হবে এবং অতিরিক্ত মসলা ও গুরুপাক খাদ্য বর্জন করতে হবে। তাকে প্রচুর পানি বিশেষ করে ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। এছাড়া তাকে আখ, বাতাবি লেবুসহ অন্যান্য ফলের রস খাওয়াতে হবে। চিনি, গুড় বা মধুর পরিবর্তে তার জন্য গ্লুকোজের ব্যবস্থা করতে হবে। রুচি ও হজমশক্তির উন্নতির সাথে সাথে তাকে বিভিন্ন ধরনের খাবার দেয়া যাবে। যেমন— সুজি, ননীতোলা দুধ, নরম সিদ্ধ আটার রুটি, ভাত, আলু, গুড়, চিনি, পুডিং, পায়েস, ফল, ফলের রস, সবজি স্যুপ, মাছ, মুরগির ঝোল ইত্যাদি।
আমার বন্ধুর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ মতো খাদ্য পরিকল্পনা করে দিলে সে সুস্থ হয়ে উঠবে।