রহিম সাহেব হৃদরোগে ও জামাল সাহেব ডায়াবেটিসে আক্রান্ত দেহে শর্করার ব্যবহার ঠিকমতো না হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায় এবং প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়, এই অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে। জামাল সাহেবের ঘন ঘন প্রস্রাব হয়, শরীর দুর্বল লাগে ও দ্রুত ওজন কমে যাচ্ছে অর্থাৎ, তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
রহিম সাহেব ও জামাল সাহেবের পথ্য পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে।
রহিম সাহেবকে ক্যালরি, শর্করা ও স্নেহের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। খাদ্যে প্রাণিজ প্রোটিনের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের (ডাল, সিমের বিচি ইত্যাদি) মিশ্রণ রাখতে হবে। তাকে মধু, মিষ্টি, ঘি, ডালডা বর্জন করতে হবে। কোলেস্টেরলসমৃদ্ধ খাদ্য যেমন- গরু, খাসির মাংস, গলদা চিংড়ি, কলিজা, মগজ, দুধের সর, ক্রিম, ইত্যাদিও বর্জন করতে হবে। ভিটামিন “সি” জাতীয় খাবার (আমড়া, লেবু, কমলা, কামরাঙা, পেয়ারা, আমলকি ইত্যাদি) নিয়মিত খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। এছাড়া খনিজ উপাদানের মধ্যে তাকে সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চিনি, গ্রহণে রক্তের গ্লুকোজ খুব দ্রুত বাড়ে ২, গড় মিষ্টি প্রভৃতি খাদ্য খুব দ্রুত বাড়ে। তাই জামাল সাহেবকে এসব খাবার বর্জন করতে হবে। এর পরিবর্তে শস্য, সিদ্ধ চাল, ভূষিসহ আটার রুটি, খোসাসহ ফল, ডাল, শিমের বিচি, শাকসবজি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে। তাকে সম্পৃক্ত চর্বি যেমন— ঘি, মাখন, ডালডা এবং কোলেস্টেরলসমৃদ্ধ খাদ্য যেমন— কলিজা, মগজ, ডিমের কুসুম, গলদা চিংড়ি প্রভৃতি বর্জন করতে হবে। তার খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ রাখতে হবে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন টক জাতীয় ফল ইচ্ছামতো খেতে পারবেন।
সুতরাং, রহিম সাহেব ও জামাল সাহেবের সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ্য পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হবে।