উদ্দীপকে রহিমার বিয়েতে উপঢৌকন ছাড়া অন্যান্য কিছু দাবি করা 'যৌতুক' নামক ভয়াবহ সামাজিক সমস্যাকে নির্দেশ করে।
যৌতুক হলো এক ধরনের অর্থনৈতিক দাবি। সামাজিকভাবে এ প্রথাকে উপহার, উপঢৌকন, নজরানা প্রদান প্রভৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। সাধারণত পাত্র বা পাত্রীপক্ষ কর্তৃক পাত্রী বা পাত্রকে প্রদেয় অর্থ- সম্পত্তি বা অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী যৌতুক হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে যৌতুক মূলত পাত্রীপক্ষ কর্তৃক পাত্রপক্ষকে দেওয়া হয়ে থাকে। যৌতুকের দ্রব্যাদির মধ্যে নগদ অর্থ থেকে শুরু করে গহনা, টিভি, ফ্রিজ, মোবাইল, আসবাবপত্র প্রভৃতি দাবি করা হয়ে থাকে। যৌতুকের সাধারণ ব্যাখ্যায় ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স র্যাডিন বলেন, "যৌতুক হলো সে সম্পদ যা বিবাহের সময় ব্যক্তি তার স্ত্রী বা স্ত্রীর পরিবার থেকে পেয়ে থাকে।"
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিমার বিয়ের সময় তার বাবা পাত্রপক্ষকে স্বর্ণালংকার, গৃহস্থালী সামগ্রী, মোটর সাইকেল ও নগদ অর্থসহ অনেক উপহার প্রদান করেন। পাত্রপক্ষ বিয়ের কিছুদিন পর আরো অনেক কিছু দাবি করে। পূর্বে আলোচিত যৌতুকের সংজ্ঞা এবং উদাহরণের প্রেক্ষিতে সহজেই বোঝা যায় যে, উপটৌকন ব্যতিত পাত্রপক্ষ অন্যান্য যা কিছু দাবি করেছে তা যৌতুক সমস্যাকেই নির্দেশ করে।