ঘটনা-২ এ বর্ণিত সামাজিক সমস্যা অর্থাৎ যৌন নিপীড়ন নিরসনে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় ।
বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি সমস্যা হলো যৌন নিপীড়ন। সাধারণত কোনো পুরুষের আচার-আচরণে যখন কোনো নারী শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মুখোমুখি হয় তখন তাকে যৌন নিপীড়ন বলে। যৌন নিপীড়নের ধরনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— অশ্লীল গান বাজানো বা গাওয়া, অশ্লীল বা উদ্দেশ্যমূলক কথা বলা, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা, পিছু নেওয়া, পথরোধ করে দাঁড়ানো, শিস দেওয়া, প্রেম নিবেদন বা বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া, প্রস্তাবে সাড়া না দিলে হুমকি দেওয়া ইত্যাদি। উদ্দীপকে রীমার ক্ষেত্রে এ যৌন নিপীড়নের ঘটনাই ঘটেছে। কেননা স্কুলে যাতায়াতের পথে একটি ছেলে রীমার পিছু নেয় এবং অশ্লীল কথাবর্তা বলে ।
যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধের জন্য যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সেগুলো হলো- সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ও শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ। যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং সুস্পষ্ট আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা। নারীদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা এবং যথার্থ শিক্ষার অধিকার প্রদান করা। নৈতিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সমাজে নারী-পুরুষ বৈষম্যের বিলোপ সাধন করা। সমাজের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বদের (যেমন- শিক্ষক, বিচারক, ইমাম) যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে সোচ্চার হওয়া এবং নারীর প্রতি শ্রদ্ধা বাড়াতে জনসাধারণকে যৌক্তিক উৎসাহ প্রদান করা । যৌন নিপীড়ককে আইনের হাতে সোপর্দ করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে সবাইকে সোচ্চার করা। সর্বোপরি নারীর অধিকার ও সম্মান প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমগুলোর সোচ্চার ভূমিকা গড়ে তোলা ।
পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ এবং কার্যকর করার মাধ্যমে যৌন নিপীড়ন অনেকাংশে নিরসন করা সম্ভব ।