উদ্দীপকে স্লোগান-২ দ্বারা মাদকাসক্তিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সকলের জোরালো অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
মানবসভ্যতা আজ যেসব ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি মাদক তার মধ্যে অন্যতম। মাদকের সমস্যাটি বাংলাদেশের সমাজের অনেক গভীরে গেড়ে বসেছে। এ সমস্যা এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। সুস্থ, সুন্দর, সৃজনশীল, প্রতিভা এবং তারুণ্যকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম মাদকের সরবরাহ কথাতে হবে। কারণ মাদক এখন সহজলভ্য। হাত বাড়ালেই মাদকের সন্ধান মেলে। তাই মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নিলে সহজেই মাদকের সরবরাহ কমানো সম্ভব। মাদকাশক্ত প্রতিরোধে সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাদকের কুফল, তার প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে।
মাদকাসক্তি প্রতিরোধের জন্য গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপন, নাটক, আর্টিকেল প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া মাদকাসক্তি প্রতিরোধে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একই প্লাটফর্মে আসা দরকার। পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে পাড়া বা মহল্লায় বিভিন্ন সামাজিক ক্যাম্পেইন করে মাদকের কুফল ও ওয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। এছাড়া মাদকদ্রব্যের চোরাচালান, বিক্রয়, বিপণন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যেমন- পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, সেনাবাহিনী প্রভৃতিকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সুতরাং বলা যায়, উপযুক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাদকের প্রতিরোধ সম্ভব বলে আশা করা যায়।