উদ্দীপকে নাঈম সাহেব দুর্যোগ সৃষ্টির জলবায়ুগত পরিবর্তন লক্ষ করেন।
মানবসভ্যতার সূচনালগ্নে আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যান্ত্রিক সভ্যতার অগ্রগতি, শিল্পায়ন ও নগরায়ণ ইত্যাদি কারণে এই ভারসাম্যপূর্ণ জলবায়ু পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। জলবায়ুর স্বাভাবিক আচরণের এই পরিবর্তনই জলবায়ু পরিবর্তন। আরো নির্দিষ্ট করে বললে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তিত রূপই হলো জলবায়ু। অধিকহারে বৃক্ষ নিধন ও বনভূমি উজাড় করা, কলকারখানা ও যানবাহনের কালো ধোঁয়া প্রভৃতি কারণে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে পৃথিবী আগের তুলনায় বেশি উষ্ণ হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে। এ কারণে সময়ে অসময়ে অনাবৃষ্টি-অতিবৃষ্টি, ঋতুগুলোর দীর্ঘকালীন বা স্বল্পকালীন স্থায়িত্ব, থন ঘন বন্যা, খরা, ভূমিকম্প ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উদ্দীপকে নাঈম সাহেব লক্ষ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বর্ষাকাল দেরিতে আসছে, গ্রীষ্মকাল দীর্ঘতর হচ্ছে, এমনকি শীতকালে গরম অনুভূত হচ্ছে। এ কারণে প্রতিবছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ নানারকম দুর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বৈশিষ্ট্যে উপরে আলোচিত জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, নাঈম সাহেব জলবায়ুগত পরিবর্তনের কারণেই বিভিন্ন দুর্যোগ সৃষ্টির কারণ লক্ষ করেন।