উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা তথা বার্ধক্য সমস্যার জন্য বিশ্বায়নই দায়ী — এ বক্তব্যের সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করছি।
বিশ্বায়ন হলো কোনো কিছুর স্থানিক থেকে বৈশ্বিক রূপ লাভ করা । বিশ্বায়নের ফলে মানুষের কর্ম, পেশা নির্বাচন, দক্ষতা অর্জন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগত ধারণাগুলো ক্রমাগতভাবে বদলে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বায়নের ফলে অনেক পরিবর্তন এসেছে যা মানুষ ও সমাজকে নতুন ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বস্তুত বিশ্বায়নের ফলে ব্যক্তির মধ্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের জন্ম হচ্ছে । ফলে অনেক সময়ই দেখা যায়, ব্যক্তি পরিবার থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজস্ব জীবনধারা গড়ে তুলছে। সুতরাং কোনো ব্যক্তির বার্ধক্য অবস্থায় সন্তানদের মধ্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী মনোভাব বেশি থাকলে ওই ব্যক্তি বার্ধক্য সমস্যায় পড়তে পারেন। অর্থাৎ বার্ধক্য সমস্যা সৃষ্টির জন্য বিশ্বায়ন একটি কারণ হিসেবে কখনো কখনো ভূমিকা রাখে। তবে বার্ধক্য সমস্যার জন্য কেবল বিশ্বায়ন দায়ী নয়। বরং এর পিছনে আরও অনেক কারণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে বৃদ্ধদের কর্মসংস্থান নেই বললেই চলে। ফলে তারা চরম দারিদ্র্য ও আর্থিক অসচ্ছলতার শিকার হয়। গ্রাম বাংলার দরিদ্র বৃদ্ধরা পরিচিত এলাকার কারণে ভিক্ষা করতে পারে না। ফলে এই শ্রেণির বৃদ্ধরা শহরে এসে ভিক্ষাবৃত্তি করে মানবেতর জীবনযাপন করে। স্বাস্থ্যহীনতা ও পুষ্টিহীনতা বার্ধক্যের অন্যতম প্রধান সমস্যা। উপার্জন না থাকায় ক্রয় ক্ষমতার অভাবে খাদ্য গ্রহণ ও চিকিৎসা নিতে বৃদ্ধরা অক্ষম। আর্থিক উপার্জন না থাকায় বৃদ্ধরা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে উপেক্ষা, অনাদর, অবহেলা-বঞ্চনার শিকার হন । ফলে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন ও নিজেদেরকে অপ্রয়োজনীয় বোঝা মনে করেন। বৃদ্ধদের চিত্তবিনোদন ও সময় কাটানোর সুযোগ-সুবিধা খুবই কম। বর্তমান পরিবর্তিত সমাজ ব্যবস্থায় পরিবারের সবাই ব্যস্ত থাকে। বৃদ্ধদের সাথে সময় কাটানোর মতো সময় কারো নেই। ফলে তারা একাকিত্ব অনুভব করেন। বৃদ্ধরা প্রায় সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, সরকারিভাবে তেমন কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় তারা সব সময় নিজেদেরকে অসহায় মনে করেন ।
উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট, কেবল বিশ্বায়নের কারণে বার্ধক্য সমস্যার সৃষ্টি হয় না, বরং এর পিছনে আরও নানাবিধ কারণ ভূমিকা রাখে। আর এ কারণে আমি প্রশ্নোক্ত বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করছি ।