উদ্দীপকে শিশু-কিশোররা এখন খেলার মাঠের চেয়ে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ বা টিভিকে বিনোদন উপকরণ হিসেবে বেশি পছন্দ করছে।
এক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব লক্ষণীয়। বিনোদনের মাধ্যমে হিসেবে তথ্য-প্রযুক্তির ভালো ও মন্দ উভয় দিকই রয়েছে। সম্প্রতি সমাজজীবনে তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একারণে অনেক পরিবারই তাদের সন্তানদের মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, টিভি, ইন্টারনেট প্রভৃতির সংস্পর্শে আসতে কোনোরূপ বাধানিষেধ আরোপ করছে না। শিশুরা এসকল উপকরণ ব্যবহার করার মাধ্যমে মূলত নিজের বিকাশ ঘটায়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের কারণে বিজ্ঞাপন চিত্র, জনপ্রিয় সিনেমা, বিখ্যাত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং তাদের জীবনধারা প্রচার মাধ্যমের কল্যাণে দ্রুত সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। আর এগুলো সবই শিশুর সামাজিকীকরণে প্রভাব ফেলে। এই প্রভাব ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রকারের হয়ে থাকে। অনেক পরিবারের অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবন, জ্ঞান-বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্তানরা স্বাধীনভাবে বিভিন্ন পর্ণ ভিডিও কিংবা অশ্লীল ছবি উপভোগ করে যা তাদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দেয়। এমতাবস্থায় ঐ সমস্ত শিশু-কিশোরের মানসিক বিকাশ ঘটে নেতিবাচক এবং তারা সামাজিক রীতিনীতির তোয়াক্কা করে না এবং অসদাচরণ প্রদর্শন করে। এর ফলে অনেকে নেশা, অপরাধ ও ধর্ষণ এর মতো জঘন্য কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।
তাই বলা যায়, শিশু-কিশোরদের তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।