তালহার কর্মকাণ্ডটি অন্যদের জীবনে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লিখিত তালহার কর্মকাণ্ডে সালাতের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। কারণ সালাতই মানুষকে যাবতীয় অন্যায় ও অশ্লীলতা হতে বিরত রাখে । তালহা এমন একটি ইবাদাত পালনের জন্য মসজিদে গমন করেন, যার মাধ্যমে অশ্লীলতা, অন্যায়, অবিচার, জুলুম দূর হয়ে যায়। এসব বৈশিষ্ট্য একমাত্র সালাতে বিদ্যমান। কারণ মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন— إِنَّ الصَّلوةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَر অর্থ: “নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আল-আনকাবুত : ৪৫) আমরা জানি, আল্লাহ তায়ালার নিকট বান্দার আনুগত্য প্রকাশের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হলো সালাত। সালাতের মাধ্যমেই আল্লাহর নিকট বান্দার চরম আনুগত্যের অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়। সালাত মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করে। তবে নিছক আনুষ্ঠানিকতা ও কায়িক পরিশ্রম হিসেবে বিবেচনা করলে সালাত কোনো কাজে আসবে না। অর্থাৎ অমনোযোগিতা, অবাধ্যতা, অবহেলা ও সালাতের মূল শিক্ষা ধারণ করতে না পারলে সালাতের কোনোরূপ ফজিলত বা উপকারিতা লাভ করা যাবে না। শুধুমাত্র মনোযোগ সহকারে ও নিষ্ঠার সাথে আদায়কৃত সালাত ব্যক্তিকে সকল প্রকার অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে সন্দেহ নেই । সালাত আদায়কারী মুত্তাকি ও পরহেজগার হয়। তাই তার দ্বারা পাপ কাজ ও অন্যায় কাজ সংঘটিত হয় না। তাদের নিকট ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র নিরাপত্তা লাভ করে। সালাতের মাধ্যমে সামাজিক সাম্য ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে কোনোরূপ ভেদাভেদ দেখা যায় না, রাজা-প্রজা, ধনী-গরিব, সাদাকালো সবাই সমান । সবাই এক আল্লাহর অনুগত দাস। ফলে প্রত্যেকের মাঝে ভাবের আদান-প্রদান হয় এবং এক অদৃশ্য মজবুত বন্ধন তৈরি, নামাজিরা পরষ্পর পরষ্পরের সুখ- দুঃখের সাথী হয়। এছাড়া সালাতের মাধ্যমে মানুষের চরিত্র গঠিত হয় । ফলে সমাজ হতে অনাচার, অশ্লীলতা ও পঙ্কিলতা দূর হয় । সুতরাং বলা যায়, তালহার কর্মকাণ্ডে সালাত নামক ইবাদাতের কথা ফুটে উঠেছে। যা মুমিনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য ।
HSC Islamic Studies 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic Studies 2nd Paper · সৃজনশীল
তালহার কর্মকাণ্ডটি অন্যদের জীবনে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
উদ্দীপক
Barisal · 2021
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর