দানকারীকে রাসুলুল্লাহ (সা.) দানগ্রহীতার থেকে উত্তম বলে মূল্যায়ন করেছেন ।
ইসলামে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদাত হলো সাধ্যমতো দান-সদকা করা। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে দান করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে এবং দানের বিভিন্ন ফযিলত বর্ণনা করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসের শেষাংশে দানকারীর মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন-الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السفلى
অর্থাৎ, “উপরের হাত নিচের হাত থেকে উত্তম। অর্থাৎ দানগ্রহীতার থেকে মর্যাদাগতভাবে দানকারী অনেক উত্তম। হাদিসের অন্য অংশে রাসুল (সা.) আরও বলেছেন- وَمَنْ يَسْتَعْن يُغْنِهِ اللَّهُ
অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র থাকতে চায় (অন্যের মুখাপেক্ষী হতে) আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন। অর্থাৎ দানকারীকে মহান আল্লাহ সচ্ছলতা ও বরকত দ্বারা অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে পবিত্র রাখেন।
রাসুল (সা.) ব্যক্তিকে দান করে দেউলিয়া হওয়ার মনোবৃত্তি ত্যাগ করতে বলেছেন। সম্পদ দান করার পর দাতাকে যেন দান গ্রহণের অবস্থায় পড়তে না হয়। সেজন্য পরিবারের সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ জমা রাখা উচিত। মহান আল্লাহ বলেন, “কখনো নিজের (বায়ের) হাত নিজের গর্দানের সাথে বেঁধে রেখো না (যাতে কার্পণ্য প্রকাশ পায়), আবার তা সম্পূর্ণ খুলেও রেখো না, অন্যথায় (বেশি খরচ করার কারণে) তুমি নিন্দিত নিঃস্ব হয়ে যাবে।” (সূরা বনী ইসরাইল : ২৯)
এছাড়া মহান আল্লাহ দানকারীকে মুত্তাকি বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلوةَ وَمِمَّا رَزَقْتُهُمْ يُنْفِقُونَ
অর্থ : “যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সালাত কায়েম করে; এবং আমি তাদের যে সম্পদ দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।” (সূরা আল-বাকারা : ৩)
পরিশেষে বলা যায়, দান মানুষকে মুত্তাকি বানায়। আল্লাহ দানকারীর নষ্ট থাকেন। তাকে দনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করেন।