উদ্দীপকে উদ্দীষ্ট প্রথম বিষয়টি হলো আল-কুরআন মানবজীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
আল-কুরআন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি গ্রন্থ। এটি কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষের জীবন বিধান হিসেবে কার্যকর থাকবে। আল-কুরআন শ্রেষ্ঠ হওয়ার কারণ হলো- এটি নাযিল করার সাথে সাথে অন্যান্য আসমানি কিতাবের যাবতীয় হুকুম-আহকাম বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সেসবের কার্যকারিতা রহিত করা হয়েছে। আর তদস্থলে আল-কুরআনের বিধানকে বহাল করা হয়েছে। সুতরাং এর মাধ্যমে বোঝা যায়, আল-কুরআনই সর্বশ্রেষ্ঠ ঐশী গ্রন্থ ।
আল-কুরআন নাযিল করা হয়েছে বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর ওপর। এটি এজন্য নাযিল করা হয়েছে যাতে মানুষ হিদায়েত লাভ করতে পারে। পবিত্র কুরআনে এ মর্মে ঘোষিত হয়েছে—
“আল্লাহর পক্ষ হতে রাসুল (সা.) তোমাদের নিকট জ্যোতি ও সুস্পষ্ট গ্রন্থসহ আগমন করেছেন। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে তাদেরকে তিনি এ গ্রন্থের সাহায্যে শান্তির সকল পথেরই সন্ধান দেবেন। তাদেরকে নিজের নির্দেশ দ্বারা অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে আসেন এবং সরল-সহজ মুক্তির রাজপথে পরিচালনা করেন।” (সূরা মায়িদা : ১৫-১৬) আল্লাহ তায়ালা কুরআনে আরও এরশাদ করেন- মা, ভাত, althy so অর্থাৎ “আল-কুরআন মানবজাতির পথনির্দেশক এবং সৎ পথের সুস্পষ্ট নীতিমালা আর সত্যাসত্যের পার্থক্য নির্ণয়কারী।” (সূরা বাকারা : ১৮৫) তিনি আরও এরশাদ করেন- هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ
অর্থাৎ “আল-কুরআন মানবজাতির পথনির্দেশক এবং সৎ পথের সুস্পষ্ট নীতিমালা আর সত্যাসত্যের পার্থক্য নির্ণয়কারী।” (সূরা বাকারা : ১৮৫) তিনি আরও এরশাদ করেন-
“নিশ্চয়ই এ কুরআন কেবল সেই পথেরই সন্ধান দেয় যা সুদৃঢ় সর্বোৎকৃষ্ট।” (সূরা বনি ইসরাইল : ৯)
রাসুল (সা.) এমন একসময় নবুয়ত লাভ করেন, যখন আরব তথা গোটা বিশ্ব পঙ্কিলতায় অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তিনি কুরআনের মাধ্যমে সে সমাজকে পঙ্কিলতামুক্ত করেছিলেন। তাই আল-কুরআনই বিশ্বমানবতার মুক্তি সনদ ।
অন্যদিকে, আল-কুরআনের আগমনের মাধ্যমে অন্যান্য সকল আসমানি কিতাবের কার্যক্রম রহিত হয়ে যায় এবং কিয়ামত পর্যন্ত আল-কুরআনের কার্যকারিতা ঘোষণা করা হয়। সে বিবেচনায় আল- কুরআনই সব আসমানি কিতাবের সেরা কিতাব।