উদ্দীপকে বর্ণিত 'দেখে নেব' বলে হুমকি প্রদানকারীর আচরণে প্রতিহিংসাপরায়ণতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এ ধরনের আচরণ সমাজে বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়।ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। তাই ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুষ্ঠু, সুন্দর সমাজ গঠন ইসলামের কাম্য। ঔদ্ধত্য, প্রতিহিংসার মাধ্যমে কারও ক্ষতি করার প্রবণতাকে ইসলামে স্থান দেওয়া হয়নি। বরং এ ধরনের মানসিকতার অধিকারীকে নিবৃত্ত করতে বলা হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত হুমকি প্রদানকারীর আচরণ ইসলামি শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। আর এ ধরনের আচরণ- সমাজে অরাজকতা, নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সমাজকে অকল্যাণের দিকে ধাবিত করে।উদ্দীপকে দেখা যায়, দুজন বিবাদকারীকে মিলানোর জন্য একজন ইমাম মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু বিবাদকারীর একজন ভুল বুঝতে পেরে সংযত হলেও অন্যজন ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে। সে 'দেখ নেব' বলে অপরজনকে হুমকি দেয়। এ ধরনের আচরণকারী ইসলামে জুলুমকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং তাকে নিবৃত্ত করতে ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে- 'তোমরা অত্যাচারী ভাইকে সাহায্য করো এবং অত্যাচারিত ভাইকে সাহায্য করো। যদি সে অত্যাচারী হয়, তাহলে তাকে অত্যাচার থেকে নিবৃত্ত করো। আর যদি সে অত্যাচারিত হয়, তবে তাকে সাহায্য করো।' মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। তাই কেউ যদি কারও ক্ষতি করতে চায় তাহলে অপর মুসলমানের কর্তব্য হলো তাদেরকে সংশোধন করে দেওয়া। কেউ যদি সংশোধন না হয় তাহলে বিপর্যয় রোধ করার জন্য সামষ্টিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কারণ জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন অত্যন্ত গর্হিত কাজ। ইসলামে এর কোনো স্থান নেই। এসব কাজ মানুষের অধিকার নষ্ট করে এবং যারা কাজে জড়িত থাকে তাদের পরকালীন ও ইহকালীন কল্যাণ বিনষ্ট হয়। তাই জালিমকে যথাসম্ভব প্রতিরোধ করাই মুমিনের কর্তব্য।উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা প্রমাণিত যে 'দেখে নেব' বলে হুমকি প্রদানকারীর আচরণ ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক নয়। কারণ এ ধরনের কাজ সমাজের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি ব্যক্তির জন্যও ক্ষতিকর।