উদ্দীপকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসলামি শরিয়তে কিয়াস প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। ইসলাম একটি গতিশীল জীবনব্যবস্থা- বিষয়টি কিয়াসের আলোকে যথার্থ।
আমরা জানি, সময়ের বিবর্তনে মানবজীবনে নানা সমস্যার উদয় হয়। শরিয়তের যে সমস্ত বিধিবিধানের সমস্যার স্পষ্ট কোনো সমাধান কুরআন, হাদিস ও ইজমায় পরিষ্কার উল্লেখ নেই এরূপ ক্ষেত্রে কিয়াস প্রয়োগ হয়ে থাকে। দৃষ্টান্তস্বরূপ মহানবি (সা.) যখন মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়ামানের শাসনকর্তা মনোনীত করে পাঠান, তখন তিনি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন যে, শাসনসংক্রান্ত ব্যাপারে কোনো নতুন সমস্যার উদ্ভব হলে তিনি (মুয়ায) কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন? মুয়ায (রা.) জবাব দিলেন যে, তিনি পবিত্র কুরআনের অনুসরণ করবেন। মহানবি (সা.) তাঁকে প্রশ্ন করলেন, “যদি পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট নির্দেশ না থাকে?” তখন মুয়ায (রা.) উত্তর দিলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসের অনুসরণ করবেন। আর রাসুল (সা.)-এর হাদিসের দ্বারা ফয়সালা করতে না পারলে তিনি তাঁর নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করবেন। রাসুল (সা.) মুয়ায (রা.)-এর এ জবাবে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করলেন। তাঁর জন্য দুআ করলেন এবং ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগে তাঁকে উৎসাহিত করলেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, সাকিব সমাজজীবনের এমন কিছু সমস্যা নিয়ে রাকিবের সাথে আলোচনা করল, যার সমাধান কুরআন, হাদিস এমনকি ইজমায়ও নেই। এ বিষয়ে তারা একজন ইসলামি চিন্তাবিদদের শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন যে, ইসলাম একটি গতিশীল জীবনব্যবস্থা। যেকোনো সমস্যার সমাধানই ইসলামি শরিয়তে রয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে হযরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক কিয়াস করার অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যায়। ইসলামি শরিয়তের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো কিয়াস। সময়ের বিবর্তনে আধুনিক যুগজিজ্ঞাসার যুগে ইসলামকে সর্বজনীন কল্যাণমুখী আদর্শ ধর্ম হিসেবে বিশ্বমানবের সামনে উপস্থাপন করতে হলে উদ্ভূত নতুন নতুন সমস্যার সমাধানে কিয়াসই হলো একমাত্র কার্যকরি পন্থা। কিয়াস প্রমাণ করে যে, “ইসলাম গতিশীল জীবনব্যবস্থা” এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে টেকসই ও কার্যকরী ধর্ম।