উদ্দীপকের হাদিসটির মাধ্যমে কিয়াস করার অনুমোদন পাওয়া যায়। রাসুল (সা.)-এর পরবর্তী সময়ে সাহাবাগণও কিয়াস করেছেন। সাহাবিগণ কিয়াস প্রয়োগ করেছেন— এমন দুটি উদাহরণ হলো- একবার নবি কারিম (সা.)-এর অনুপস্থিতিতে হযরত আবু বকর (রা.) নামাযে ইমামতি করেন। এর ওপর কিয়াস করে পরবর্তীতে সাহাবায়ে কিরাম তাঁর রাষ্ট্রপ্রধান হওয়াকে সর্বাগ্রে বিবেচ্য মনে করেছেন এবং সাহাবায়ে কিরাম বলেন- رَضِيَهِ رَسُولُ اللهِ (ص) لِدِينِنَا أَفَلَا تَرْضَاهُ لِدُنْيَانَا অর্থাৎ, “রাসুল (সা.) তাঁকে (আবু বকর (রা.) কে) আমাদের দ্বীনের নেতৃত্বের জন্য পছন্দ করেছেন, তাহলে আমরা কেন পৃথিবীর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হব না।” নবি কারিম (সা.) অন্যত্র এরশাদ করেন— “হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক নবি (সা.)-এর কাছে আসলেন এবং বললেন, আমার বোন হজ করার মানত করেছিল, (এমতাবস্থায়) সে মারা যায়। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করব? অতঃপর নবি (সা.) বললেন, যদি তার (তোমার বোনের) কোনো ঋণ থাকত, তাহলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, (পরিশোধ করতাম)। তিনি (নবি) (সা.) বললেন, তাহলে তুমি আল্লাহর ঋণ পরিশোধ কর। পরিশোধ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তিনি (আল্লাহ) অধিকতর উপযুক্ত।” (সহিহ বুখারি) হাদিসে দেখা যায়, মহানবি (সা.) মানতকৃত হজকে ঋণের ওপর কিয়াস করেছেন । উপরিউক্ত প্রথম হাদিসের ওপর কিয়াস করে হযরত আবুবকর (রা.) খলিফা নির্বাচিত করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় হাদিসের মাধ্যমে বদলি হজের বিধান সাব্যস্ত হয়েছে। এ দুটি ঘটনা সাহাবিগণের কিয়াস প্রয়োগের উদাহরণ।