রফিকের প্রশ্নের সাথে ভ্রান্ত সম্প্রদায়ের মতের সাদৃশ্য রয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
একদল ভ্রান্ত মনে করে কিয়াস গ্রহণযোগ্য এবং আমলযোগ্য নয়। কেননা পবিত্র কুরআনে সবকিছুর বর্ণনা রয়েছে, আবার বনি ইসরাইলিরা কিয়াস করার কারণে ধ্বংস হয়েছে। তাছাড়া কিয়াস মৌলিকভাবে সন্দেহজনক, রফিকও ভ্রান্ত দলের প্রদত্ত বক্তব্যের জবাবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বলেন- ১. কিয়াস কেবল কিতাবুল্লাহর মর্ম উদ্ঘাটন করে, এটা পৃথকভাবে কোনো হুকুম সাব্যস্ত করে না। সুতরাং এটা আদৌ কুরআনের পরিপন্থি নয়। ২. বনি ইসরাইলের কিয়াস ছিল হঠকারিতা ও দাম্ভিকতার উদ্দেশ্যে। কিন্তু আমাদের কিয়াস হলো ইসলামের বিধান আবিষ্কার ও আল্লাহর দ্বীনকে বুলন্দ করার উদ্দেশ্যে, যা আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল। ৩. কিয়াসের মধ্যে সন্দেহ থাকলেও এটা আমলকে বাধ্যতামূলক করতে নিষেধ করে না।। তবে একথা বলা যায়, সন্দেহ দৃঢ় প্রত্যয়যুক্ত জ্ঞান বা عِلْمٌ يَقِيْنِ এর পরিপন্থি। আর এমনটি হওয়াও নাজায়েয নয়।
কিয়াসের ওপর আমল করা সম্পর্কে রফিকের প্রশ্ন হলো, পবিত্র কুরআনে সবকিছুর বিশদ বর্ণনা করা সত্ত্বেও আমাদেরকে কিয়াসের ওপর আমল করতে হবে কেন। তার এ বক্তব্যটি গ্রহণযোগ্য নয় এবং যৌক্তিকও নয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, কিয়াসের মাধ্যমে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তের ওপর আমল করা ওয়াজিব বা অপরিহার্য। যদিও কেউ কেউ এ মতের বিপক্ষে রয়েছেন। তবে যারা এ মতের বিরোধিতা করছেন তাদের অভিমত কুরআন, সুন্নাহ ও যুক্তির বিচারে গ্রহণযোগ্য নয়।