উদ্দীপকের বিষয়টি হলো কিয়াস। যুক্তির বিচারেও এটি শরিয়তের দলিল।
কিয়াস শরিয়তের দলিল হওয়ার জন্য যেসব যুক্তি রয়েছে, সেগুলো হলো— ১. যেসব ব্যাপারে কিতাবুল্লাহ ও হাদিসে রাসুল (সা.)-এর সুস্পষ্ট কোনো نَصّ নেই, সেসব ব্যাপারে قِيَاسٌ তথা তথা গবেষণা করে হুকুম না দিতে পারলে দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ কাজেই কিয়াস ও (قِيَاس) শরিয়তের দলিল হবে। ২. সূক্ষ্ম দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তাভাবনা করলে 'আকল' এ কথার সাক্ষ্য দেয়, যেহেতু স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা, فَاعْتَبِرُوا يُأُوْلِي الْأَبْصَارِ বলে কিয়াস করার প্রতি আদেশ করেছেন, সেহেতু শরিয়তের হুকুমসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে কুরআন ও হাদিস দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে অপারগতার ক্ষেত্রে কিয়াসের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। ৩. আরবি ভাষায় علامَةً--এর ভিত্তিতে শব্দকে حَقِيْقِی থেকে معنی مَجَارِي তে ব্যবহার করা হয়। আর কিয়াস তারই অনুরূপ। কেননা عَلَامَةٌ থাকার কারণে مُقَيْسٌ عَلَيْهِ থেকে مقيس এর মধ্যে হুকুম স্থানান্তর করা হয়, যেভাবে عَلامَةٌ থাকার কারণে শব্দকে প্রকৃত অর্থ (مَعْنَى حَقِيْقِي) থেকে রূপক অর্থ (مَعْنَى مجازی)-এর মধ্যে স্থানান্তর করা হয়। ৪. শব্দের حَقِيْقِى বা প্রকৃত অর্থের প্রতি চিন্তাভাবনা করে এটিকে استعارة হিসেবে অপর অর্থে ব্যবহার করা বহুল প্রচলিত। যেমন- اسد শব্দের حَقِيْقِى অর্থ হলো সিংহ। অতঃপর এ اِسْتِعَارَةً হিসেবে বীরত্বের মধ্যে সমঅংশীদারের ভিত্তিতে বীরপুরুষ অর্থে ব্যবহার করা সর্বজনস্বীকৃত। অনুরূপ আল্লাহর বাণী فاعتبروا শব্দটিকে اِسْتِعَارَة হিসেবে -قيسوا অর্থে ব্যবহার করা অযৌক্তিক নয়। কাজেই প্রমাণিত হয়, কিয়াস একটি স্বীকৃত শরিয়তের দলিল।
উদ্দীপকেও অধ্যাপিকা রুমানা ইসলাম পাঠদানকালে কিয়াস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এটি শরিয়তের অন্যতম দলিল।
সুতরাং বলা যায়, কিয়াস ইসলামি শরিয়তের প্রামাণ্য ও যৌক্তিক উভয় প্রকারের দলিল।