উদ্দীপকের প্রশ্নে কিয়াস শুদ্ধ হওয়ার জন্য আবশ্যকীয় শর্তগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কিয়াস (قِيَاسٌ) বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য ৪টি শর্ত পাওয়া আবশ্যক। নিচে এসব শর্তাবলি আলোচনা করা হলো- ১. কিয়াস (قِيَاسٌ)-এর প্রথম শর্ত হলো- أَنْ لَا يَكُوْنَ الْأَصْلُ مَخْصُوصًا بِحُكْمِهِ بِنَ آخَرَ অর্থাৎ, مُقَيَّسٌ عَلَيْهِ তথা মূল বিষয়ের হুকুমটি অপর কোনো 'নস' দ্বারা مَخْصُوْصِ তথা নির্দিষ্ট না হওয়া; مَقَيَسٌ عَلَيْهِ-টি যদি এমন সম্পৃক্ত হয়, যা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর জন্য অন্যকোনো 'নস' দ্বারা নির্দিষ্ট ও সীমিত হয়, তবে এর ওপর অন্যকোনো বস্তু বা ব্যক্তির বিধানের কিয়াস করা যাবে না। ২. কিয়াসের দ্বিতীয় শর্ত হলো- لَا يَكُونُ الْأَصْلُ مُخَالِفًا لِلْقِيَاسِ অর্থাৎ, المُقَيَّسٌ عَلَيْهِ তথা মূল বিষয়ের হুকুমটি অন্য কোনো 'নস' দ্বারা কিয়াসের বিপরীত না হওয়া। কেননা মূল তথা المُقَيَّسٌ عَلَيْهِ যদি স্বয়ং কিয়াসের বিপরীত হয়, তবে তার ওপর অন্য বিষয়ের কিয়াস শুদ্ধ হবে না। ৩. কিয়াসের তৃতীয় শর্ত হলো- أَنْ يَتَعَدَّى الْحُكْمُ الشَّرْعِيُّ الثَّابِتُ بِالنَّصِ بِعَيْنِهِ إِلَى فَرْع هُوَ نَظِيْرُهُ وَلَا نَّضٌ فِيْهِ অর্থাৎ, নসের মাধ্যমে 'আসল'-এর মধ্যে যে শরয়ি হুকুমটি সাব্যস্ত হয়েছিল, হুবহু সে হুকুমটি এমন শাখার প্রতি প্রত্যাবর্তন (مُتَعَنِى) করবে, যা মূলের পরিপূর্ণ সদৃশ। আর সে শাখার ব্যাপারে কোনো 'নস' থাকবে না। ৪. কিয়াসের চতুর্থ শর্ত হলো- أَنْ يَبْقَى حُكْمُ النَّضِ بَعْدَ التَّعْلِيلِ عَلَى مَا كَانَ قَبْلَهُ অর্থাৎ, কিয়াসের পূর্বের হুকুমটি যেমন ছিল, تَعْلِيلٌ-এর পরেও তেমনি অবশিষ্ট থাকা। এক্ষেত্রে اَصْلٌ -এর হুকুমে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয় কিয়াসের উল্লিখিত চারটি শর্ত রয়েছে।