উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসলামি শরিয়তের উৎসটি হলো কিয়াস। এটি ইসলামি শরিয়াহ চতুর্থ উৎস। এর প্রয়োগ তখনই করা যাবে যখন উদ্ভূত সমস্যার সমাধান পবিত্র কুরআন, হাদিস ও ইজমাতে পাওয়া না যাবে।
নবি কারিম (সা.) যখন হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়ামেনের শাসনকর্তা নিয়োগ করে প্রেরণ করেন, তখন নবিজি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "হে মুয়ায যখন কোনো সমস্যার উদ্ভব হবে তখন কীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহর (পবিত্র গ্রন্থ) কুরআন দ্বারা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহর কিতাবে যদি না পাও? তিনি জবাব দিলেন, রাসুল (সা.)-এর হাদিস (সুন্নাহ) দ্বারা। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, যদি হাদিসে না পাও, তাহলে কী করবে? উত্তরে মুয়ায বললেন, তাহলে আমি আমার নিজের বিবেকবুদ্ধি প্রয়োগ (কিয়াস) করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আল্লাহর রাসুলের দূত দ্বারা এমন উত্তর দেওয়ালেন যাতে তাঁর রাসুল সন্তুষ্ট হলেন।" যদি কিয়াস শরিয়তের দলিল না হতো, তবে নবি কারিম (সা.) হযরত মুয়ায (রা.)-এর জবাব "আমি আমার রায় (কিয়াস)দ্বারা ইজতিহাদ (গবেষণা) করব"।-কে তৎক্ষণাৎ নিষিদ্ধ করে দিতেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন না।
সুতরাং এ থেকে বোঝা যায়, কুরআন, হাদিস ও ইজমা হতে সমস্যার সমাধান করতে না পারলেই কিয়াসের পথ অবলম্বন করতে হবে।