ইসলামি শরিয়তে মুয়ায (রা.)-এর অনুসৃত নীতির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রাসুল (স.)-কে মুয়ায (রা.) যে উত্তর দিয়েছিলেন তা ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস আল কিয়াসকে নির্দেশ করে। আধুনিক সমাজ ও সভ্যতায় কিয়াসের প্রয়োগ ও ব্যবহার অত্যন্ত যৌক্তিক। কিয়াস না থাকলে ইসলাম পরিপূর্ণতা পায় না, মানুষের অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয় না। কিয়াসে মানুষের ওইসব সমস্যা সমাধান করা হয়, যার সমাধান সরাসরি কুরআন, হাদিস ও ইজমাতে নেই। পবিত্র কুরআন ও হাদিস দ্বারা বিষয়টি প্রমাণিত হয়। পবিত্র কুরআন মানুষকে কিয়াসের প্রতি উৎসাহিত করেছে, উৎসাহিত করেছে বিচারবুদ্ধির প্রয়োগ ও চিন্তা গবেষণার প্রতি। এ মর্মে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন— فَاعْتَبِرُوا يَأُوْلِي الْأَبْصَارِ অর্থাৎ “হে বিচক্ষণ জ্ঞানিগণ! তোমরা গভীর চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর।” (সূরা হাশর : ২) বস্তুত কুরআনের অনুসারী মুমিনরা কুরআন ও হাদিস নিয়ে চিন্তা গবেষণা করবে এটাই তাদের জন্য স্বাভাবিক । মহানবি (স.)-এর হাদিস ও কিয়াসকে সমর্থন করে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, এক লোক নবি (স.)-এর কাছে আসলেন এবং বললেন, আমার বোন হজ করার মানত করেছিল, (এমতাবস্থায়) সে মারা যায়। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করব? অতঃপর নবি (স.) বললেন, যদি তার তোমার বোনের কোনো ঋণ থাকত, তাহলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে। তিনি বললেন, হ্যাঁ (পরিশোধ করতাম) পরিশোধ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তিনি (আল্লাহ) অধিকতর উপযুক্ত।” (সহিহ বুখারি) উপরিউক্ত হাদিসে দেখা যায়, মহানবি (স.) মানতকৃত হজকে ঋণের ওপর কিয়াস করেছেন। এভাবে রাসুল (স.)-এর সময়কাল থেকেই কিয়াসের সূচনা হয় এবং তাঁর ইন্তেকালের পরে খুলাফায়ে রাশেদিন ও এ পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। কাজেই একথা বলা যায়, কিয়াসের উপযোগিতা পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বিবৃত হওয়া এটাই প্রমাণ করে, ইসলামি শরিয়তে ও বাস্তব জীবনে কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক।
HSC Islamic Studies 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic Studies 2nd Paper · সৃজনশীল
ইসলামি শরিয়তে মুয়ায (রা.)-এর অনুসৃত নীতির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর