রাসুল (স.)-কে মুয়ায (রা.) যে উত্তর দিয়েছিলেন তার যৌক্তিকতা পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে প্রমাণ কর।
উত্তর: রাসুলুল্লাহ (স.) মুয়ায ইবনে জাবাল (রা)-কে ইয়েমেনের শাসনকর্তা হিসেবে প্রেরণের প্রাক্কালে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তুমি কীভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করবে? প্রত্যুত্তরে তিনি বলেছিলেন কুরআন ও হাদিসে দ্বারা। সেখানে না পেলে ইজমার দ্বারা। আর ইজমাতে সমাধান পাওয়া না গেলে আমার বিবেক-বুদ্ধি ও বিচার-বিবেচনা দ্বারা সিদ্ধান্ত নেব। (তিরমিযি) রাসুলুল্লাহ (সা)-ও তাঁর এ জবাবে খুশি হয়েছিলেন এবং মহান আল্লাহর প্রশংসা করেছিলেন। হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল-এর সর্বশেষ উক্তিটি কিয়াসের মূলভিত্তি। এ বক্তব্য দ্বারাই কিয়াস করার অনুমোদন পাওয়া যায়। এছাড়া এ বক্তব্যের সমর্থনে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আরও বাণী রয়েছে। যেমন— এ মর্মে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, فَأَعْتَبِرُوا يَأْوْلِي الْأَبْصَارِ (ফাতাবিরূ ইয়া উলিল আবছারি।) অর্থ “হে বিচক্ষণ জ্ঞানিগণ! তোমরা গভীর চিন্তাভাবনা ও প্রজ্ঞা অবলম্বন কর।” (সূরা হাশর : ২) এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য হাদিস হলো— হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক নবি (স.)-এর কাছে আসলেন এবং বললেন, আমার বোন হজ করার মানত করেছিল, (এমতাবস্থায়) সে মারা যায়। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করব? অতঃপর নবি (স.) বললেন, যদি তার (তোমার বোনের) কোনো ঋণ থাকত, তাহলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, (পরিশোধ করতাম)। তিনি (নবি) (স.) বললেন, তাহলে তুমি আল্লাহর ঋণ পরিশোধ কর। পরিশোধপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে তিনি (আল্লাহ) অধিকতর উপযুক্ত।” (সহিহ বুখারি) হাদিসে দেখা যায়, মহানবি (স.) মানতকৃত হজকে ঋণের ওপর কিয়াস করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, কোনো বিষয় কুরআন, হাদিস ও ইজমাতে সমাধান পাওয়া না গেলে মুজতাহিদগণ বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। আর এজন্য এ হাদিসটি হযরত মুয়ায (রা.)- এর বক্তব্যের সমার্থক।
HSC Islamic Studies 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic Studies 2nd Paper · সৃজনশীল
রাসুল (স.)-কে মুয়ায (রা.) যে উত্তর দিয়েছিলেন তার যৌক্তিকতা পবিত্র…
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর