'অতিরিক্ত ধার্মিকতা'- বিষয়টি তোমার দৃষ্টিতে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত 'অতিরিক্ত ধার্মিকতা' বিষয়টি শরিয়তের চতুর্থ উৎস কিয়াসের প্রতি অবজ্ঞাসূচক, যা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। কিয়াস ইসলামের আধুনিকতা ও গতিশীলতার প্রমাণ দেয়। ইসলামি শরিয়তে আইনের উৎস হিসেবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়। কুরআন মাজিদে মুসলিম জাতিকে আল্লাহ তায়ালা কিয়াস করার নির্দেশ দিয়েছেন। বলা হয়েছে- 'হে দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন মানুষেরা! তোমরা চিন্তা ও গবেষণা করো।' (সূরা হাশর-২)। তাই আল্লাহর নির্দেশিত বিষয় হিসেবে একে উপেক্ষা করা যায় না। যদি কেউ একে অস্বীকার বা অবিশ্বাস করে তবে সে ফাসিক বলে গণ্য হবে।উদ্দীপকে কিয়াসের মাধ্যমে গৃহীত লটারি নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও আদনান একে অতিরিক্ত ধার্মিকতা বলে উপহাস করেছে। তার এ ধরনের মনোভাব ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ রাসুল (স) নিজে কিয়াস করার অনুমতি দিয়েছেন। বাস্তব প্রয়োজন ও গুরুত্বের ভিত্তিতে বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে তিনি অধিক পছন্দ করতেন। তাছাড়া মানবজীবনের পরিবর্তনমুখিতা ও গতিশীলতায় নতুন উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে কুরআন-হাদিসের আলোকে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা কোনো ক্রমেই অতিরিক্ত ধর্মপ্রবণতার পরিচয় বহন করে না। বরং এটি অধিক গ্রহণীয়।পরিশেষে বলা যায়, কিয়াস ছাড়া ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে প্রমাণ করা যায় না। কেননা, কিয়াস ব্যতীত ইসলাম গতিহীন ও সংকীর্ণ জীবনাদর্শে পরিণত হয়। তাছাড়া এটি ছাড়া মানুষের জীবনে উদ্ভূত নিত্য- নতুন সমস্যার ইসলামি সমাধান সম্ভব নয়। ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজ দেখা দিতে পারে। সুতরাং আমরা বলতে পারি, কিয়াসের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আদনানের মনোভাব যথার্থ নয়।
HSC Islamic Studies 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic Studies 2nd Paper · সৃজনশীল
'অতিরিক্ত ধার্মিকতা'- বিষয়টি তোমার দৃষ্টিতে মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপক
Dhaka · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর