উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসলামি শরিয়তের উৎসটির বিস্তারিত পরিচয় দাও
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসলামি শরিয়তের উৎসটি হলো আল-কিয়াস। কিয়াস )قیاس( শব্দের আভিধানিক অর্থ পরিমাপ, অনুমান ও তুলনা করা। যুক্তির মাধ্যমে মীমাংসা করাই কিয়াস। যে বিষয় সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহতে কোনো সুস্পষ্ট বিধিনিষেধ নেই, সেক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে প্রদত্ত অনুরূপ প্রশ্নের মীমাংসাকে ভিত্তি করে যুক্তি প্রয়োগে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, এ ধরনের যুক্তি প্রয়োগকে কিয়াস বলা হয়। কিয়াসের মূলকথা হচ্ছে পূর্ব সিদ্ধান্তকে দৃষ্টান্তরূপে গ্রহণ করে উদ্ধৃত সমস্যার সমাধানে পূর্বের নীতি বা আইন প্রয়োগ করা। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, فَاعْتَبِرُوا يُأْوْلِي الاَ بَصَارِ ফা'তাবিরু ইয়া উলিল আবছারি।) অর্থ- “হে বিচক্ষণ জ্ঞানীগণ! তোমরা গভীর চিন্তাভাবনা ও প্রজ্ঞা অবলম্বন কর।" (সূরা হাশর: ২) এ আয়াতে আল্লাহ পাক কোনো বস্তুকে তার সমপর্যায়ের বস্তুর সাথে কিয়াস বা পরিমাপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর দ্বারা কিয়াসের প্রমাণ কুরআন থেকে পাওয়া যায়। এছাড়া মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.) কে রাসুল (সা.) ইয়েমেনে শাসনকর্তা হিসেবে প্রেরণকালে মকদ্দমা নিষ্পত্তির পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.) জবাবে কুরআন, সুন্নাহ ও সবশেষে নিজের বিবেক-বুদ্ধির দ্বারা সমাধানের কথা বললে রাসুল (সা.) তা সমর্থন করেন।এ হাদিসে স্পষ্টভাবে কিয়াসের অনুমোদন রয়েছে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতে কিয়াসের ওপর আমল করা ওয়াজিব। কেননা এটি ইসলামি শারিয়তের অকাট্য দলিল। যদিও আসহাবে যাওয়াহের কিয়াসের দলিকে অস্বীকার করে। উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.)-এর ওফাতের প্রায় দেড় হাজার বছর পরেও ইসলামের আবেদন আকাশচুম্বি। কারণ, ইসলামে এমন কতকগুলো উৎস রয়েছে, যেগুলো মানুষের যাবতীয় সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম। এমনই একটি উৎস হলো কিয়াস, যা ইসলামকে নিত্য আধুনিক করছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসলামি শরিয়তের উৎসটি হলো কিয়াস, যা নতুন নতুন উদ্ভূত সমস্যার সমাধান অত্যন্ত জরুরি।
HSC Islamic Studies 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic Studies 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসলামি শরিয়তের উৎসটির বিস্তারিত পরিচয় দাও
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর