উদ্দীপকে বর্ণিত মাদকদ্রব্য কিয়াসের ভিত্তিতে হারাম হয়েছে, কিয়াসের পরিচয় ও হুকুম সম্পর্কে ইমামদের বিভিন্ন মত রয়েছে। কিয়াসের পরিচয়সংক্রান্ত মতামত হলো- ১. আল্লামা আবুল বারাকাত আন নাসাফি (র.) বলেন-
الْقِيَاسُ فِي الشَّرْعِ تَقْدِيرُ الْفَرْعِ بِالْأَصْلِ فِي الْحُكْمِ وَالْعِلَةِ অর্থাৎ অর্থাৎ, “হুকুম ও ইল্লাতের মধ্যে শাখাকে (فَرْع) মূল (اَصْلُّ)-এর সাথে অনুমান করাকে শরিয়তের পরিভাষায় কিয়াস বলা হয়।” ২. তানকিহ গ্রন্থকার বলেন- هُوَ تَعْدِيَةُ الْحُكْمِ الْفَرْعِ অর্থাৎ “মূল (اَصْلٌ)-এর হুকুমকে শাখার (فَرْع) দিকে স্থানান্তর করাকে কিয়াস বলে।” ৩. মিরকাত গ্রন্থকার বলেন- هُوَ قَوْلٌ مُؤَلِفٌ مِنْ قَضَايَا يَلْزِمُ عَنْهَا قَوْلُ اَخْرُ بَعْدَ تَسْلِمٍ تِلْكَ قياسٌ الْقَضَايَا অর্থাৎ, قياسٌ এমন কতকগুলো বাক্য বা হুকুম দ্বারা গঠিত উক্তি (قَضَايَةً) যেগুলো মেনে নিলে অন্য একটি উক্তি মেনে নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে।” ৪. ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মতে, “কিয়াস হলো আইনের বিস্তৃতি। মূল আইন যখন সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কুলিয়ে উঠতে পারে না, তখন মূল আইন থেকে ইল্লাতের মাধ্যমে নতুন বিধি আহরণ করতে হয়, এতে আইনের যে বিস্তৃতি ঘটে তাই কিয়াস।” ৫. মালেকিগণের মতে, “মূল আইন থেকে ইল্লাত-এর যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্তকে কিয়াস বলা হয়।” ৬. শাফেয়িগণের মতে, “একটি পরিচিত জিনিসের সাথে অন্য একটি পরিচিত জিনিসের ইল্লাত-এর মাধ্যমে
সমন্বয় সাধন করাকে কিয়াস বলা হয়।” ৭. ইমাম আবুল মনসুর মাতুরিদি বলেন, “মূল-এর ইল্লাত (কার্যকারণ) পাওয়ার কারণে শাখার মধ্যে আসল-এর অনুরূপ হুকুম প্রকাশ করাকেই কিয়াস বলে।” কিয়াসের হুকুমসংক্রান্ত মতামত হলো- ১. اَلْمَنَارُ গ্রন্থকার আল্লামা আবুল বারাকাত আন নাসাফি (র.)-এর মতে- حُكْمُهُ الْإِصَابَةُ بِغَالِبِ الرَّايِ وَيُفِيدُ عِلْمَ الظَّنِى دُونَ الْيَقِينُ وَيُرْجِبُ الْعَمَلَ
অর্থাৎ, “কিয়াসের হুকুম হলো প্রবল ধারণার ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছা। তাই এটি ধারণামূলক জ্ঞান বা عِلْمٌ ظَنِى-এর ফায়দা দেবে কিন্তু প্রত্যয়মূলক জ্ঞান বা عِلْمُ يَقِيْنِ-এর নয়। তবে এর দাবি অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব।” ২. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আলেমদের মতে- حُكْمُهُ تَعْدِيَةً حُكْمِ النّصّ إِلَى مَا لَا نَصَّ فِيهِ
অর্থাৎ, “যেক্ষেত্রে সরাসরি নস পাওয়া যায় না, সেক্ষেত্রে হুকুম হলো, নসের হুকুমকে যেখানে নস পাওয়া যায়নি সেদিকে ধাবিত করা।” সুতরাং نِيَاسٌ -এর ওপর আমল করা ওয়াজিব।
উদ্দীপকে বর্ণিত, জুমআর খুতবা পরবর্তী বয়ানে মাওলানা আশিক মাদানি বলেন যে, ইয়াবা, ফেনসিডিল, সিসা, প্যাথিডিন কোকেন ইত্যাদি সকল মাদকদ্রব্য ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। এগুলোর নাম কুরআন-হাদিসে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও মুজতাহিদগণ কিয়াসের মাধ্যমে হারাম ঘোষণা করেছেন।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত এসব মাদকদ্রব্য কিয়াসের ভিত্তিতে হারাম করা হয়েছে। আর কিয়াসের পরিচয় ও হুকুম সম্পর্কে ইমামদের উল্লিখিত মতামত রয়েছে