উদ্দীপকের 'ট' নামক এলাকার বিষয়টি ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য। কেননা আলেমগণ 'জ' নামক এলাকার যুবকদেরকে এলাকা থেকে বের করে দেয়ার যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল মসজিদের মিটিংয়ে তা সকলের ঐকমত্য অনুযায়ী গৃহীত হয়নি। সে মিটিংয়ে অধিকাংশ আলেম একমত হলেও কয়েকজন এর বিরোধিতা করায় ইসলামি শরিয়তের তৃতীয় উৎস ইজমা সংঘটিত হয়নি। ইজমা 'শব্দের অর্থ- ঐকমত্য পোষণ করা, মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করা, ঐক্যবদ্ধ হওয়া ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে কোনো বিষয় বা কথায় ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলে। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম পুণ্যবান মুজতাহিদ (গবেষক) ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলে।
ইজমা সংঘটিত হওয়ার রুকন ২টি। যথা- ১. আযিমাত তথা সুদৃঢ় ঐকমত্য ও ২. রুখসাত বা অনুমোদনযোগ্য ঐকমত্য। আযিমাত বলতে কোনো কারণে মুজতাহিদগণের কোনো বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করাকে বোঝায়। অন্যদিকে, রুখসাত শব্দের অর্থ অবকাশ,, অনুমোদন, বিরতি, ঐচ্ছিক ইত্যাদি। রুখসাত বলতে বোঝায় কোনো কোনো 'মুজতাহিদ একটি হুকুমের পক্ষে বক্তব্য রাখে বা আমল করে আর কতিপয় মুজতাহিদ নীরব ভূমিকা পালন করে। এমনকি এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করার সময়কাল ও আলোচনার মজলিস শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তারা এর প্রতিবাদ করেননি। এটিকে ইজমায়ে সুকুতিও বলা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, আলেমগণের অধিকাংশ ঐকমত্য পোষণ করলেও কিছু আলেম প্রতিবাদ করেছে যার দ্বারা আযিমাম বা রুখসাত কোনোটিই পরিপূর্ণ হয়নি। সুতরাং বলা যায়, তাদের গৃহীত বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় কারণ এটা শরিয়াহ নির্দেশিত ইজমার শর্তে সংঘটিত হয়নি।