প্রশ্নোক্ত উক্তিটির তাৎপর্য হলো শরিয়তের দলিল হিসেবে কুরআন ও হাদিসের পরেই ইজমার বিধানকে গ্রহণ করতে হবে। মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর ইসলাম আরবের বাইরে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। নতুন নতুন সভ্যতা সংস্কৃতির ফলে মুসলিম সমাজে নিত্যনতুন সমস্যার উদ্ভব হতে থাকে, যার সমাধান সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহে পাওয়া যায় না। তখন ওইসব সমস্যার সমাধান কুরআন ও সুন্নাহর অনুকূলে ইজমা দ্বারা করা হয়ে থাকে।উদ্দীপকে ইমাম সাহেব বলেন, ইসলামি শরিয়তের চারটি উৎস। কোনো বিষয়ের সমস্যার সমাধানে প্রথমে আল-কুরআন। তারপর হাদিস, এতে পাওয়া না গেলে, তৃতীয় উৎস খুঁজবেন অর্থাৎ 'ইজমা'। 'কুরআন ও হাদিসের পরেই এর স্থান।' ইসলামি শরিয়তের ইজমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি উৎস। মহান আল্লাহ ও রাসুল (সা.) ইজমার অবস্থান, গ্রহণযোগ্যতা, নির্ভরতা ও মর্যাদা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, "আর যে ব্যক্তি তার কাছে হিদায়েত প্রকাশিত হওয়ার পর রাসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে আমি তাকে সেদিকেই প্রত্যাবর্তন করাব, যেদিকে সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।” (সূরা নিসা: ১১৫) অন্যত্র বলেন, "তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সম্মিলিতভাবে আঁকড়ে ধর এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (সূরা আলে-ইমরান : ১০৩) রাসুল (সা.) ইজমার গুরুত্ব নিয়ে বলেন, "আমার উম্মত ভুল বা বিভ্রান্তি বিষয়ের ওপর একমত হবে না।” (ইবনে মাজাহ)ইজমা বৈধ হওয়ার শর্ত হলো ইজমা কুরআন সুন্নাহর বিরোধী হবে না। ইজমার মূলভিত্তি অবশ্যই কুরআন হাদিস ও শরিয়তের দলিলের সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অতএব বলা যায়, ইজমা হওয়ার জন্য মুজতাহিদগণের প্রত্যক্ষ বা মৌন সমর্থন থাকা অত্যাবশ্যক।