ছকের ৩নং উৎসটি হলো- ইজমা। ইজমা অর্থ ঐকমত্য হওয়া। ইসলামি পরিভাষায়, শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মতের পুণ্যবান মুজতাহিদগণের ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলে। ইসলামি শরিয়তে ইজমার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় আল-কুরআন ও রাসুলের সুন্নাহই শুধু মুসলিম আইনের মূল গ্রন্থ ছিল। মুসলমানদের বিভিন্ন সমস্যা উপরিউক্ত কিতাবসমূহের দ্বারাই মীমাংসিত হতো। কিন্তু কালক্রমে যখন মুসলমানরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জয় করতে লাগল, তখন বিজিত দেশসমূহে নতুন সমস্যা উপস্থিত হতে লাগল, যা মুসলমানদের সমাধান করতে হতো। এসব সমস্যার মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মগত ও কৃষ্টিগত ইত্যাদি সমস্যাই ছিল প্রধান। এসব নতুন সমস্যার সমাধানে কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশ পাওয়া যেত না। এসব কারণেই ইজমার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ইজমার সমর্থনে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, "আর (মুমিনগণ) তাদের নিজেদের মধ্যে পরামর্শের মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্পাদন করে।" (সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩৮)ইজমার বৈধতা ও গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবি (সা.) বলেন, "আমার উম্মত ভ্রষ্টতার ওপর একমত হবে না। অতএব যখন মতবিরোধ দেখবে তখন তোমাদের উচিত হবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সাথে থাকা। (ইবনে মাজাহ) তাই বলা যায়, ইসলামি শরিয়তে ইজমার গুরুত্ব অপরিসীম।আমার হাদিস ছাড়া বোঝা অসম্ভব।