উদ্দীপকে আজাদ সাহেব কুরআন ও হাদিসের পূর্ণ অনুসরণ করেন। তিনি মনে করেন কুরআন ও হাদিসের বাইরে অন্য কোনো উৎস মানা বিদআত। তার এ মনোভাব যথার্থ নয়। কারণ ইসলামি শরিয়তের উৎস হলো চারটি। যথা- ১. কুরআন; ২ হাদিস; ৩. ইজমা ও ৪. কিয়াস।এ চারটি উৎসের মধ্যে আজাদ সাহেব শুদ্ধ কুরআন ও হাদিসের অনুসরণ করেন। অন্য দুটি উৎস তথা ইজমা ও কিয়াসকে তিনি নব উদ্ভাবিত বিষয় বিদআত মনে করেন। অথচ ইজমা ও কিয়াস কোনো নব উদ্ভাবিত ও বিদআতি বিষয় নয় কারণ আল্লাহর তায়ালার নির্দেশে রাসুল (সা.)-এর যুগেই ইজমা ও কিয়াসের প্রবর্তন হয়েছিল। ইজমা হলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোনো সমস্যার সমাধান করা কিংবা নতুন বিধান প্রবর্তন করা। রাসুল (সা.)-এর সময় হতেই ইজমার ব্যবহার বা প্রচলন লক্ষ করা যায়। রাসুল (সা.) স্বয়ং বিভিন্ন বিষয়ে সাহাবিগণের পরামর্শ নিতেন। অতঃপর তাদের মতামতের আলোকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর তাদের কাজকর্ম সম্পাদিত হয় পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে।” (সূরা আশ-শুরা : ৩৮) এভাবে রাসুল (সা.) ইজমার বৈধতা, দৃষ্টান্ত ও আদর্শ প্রতিষ্ঠান করেন।
অন্যদিকে, ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস হলো কিয়াস। কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমাতে যে সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না ইসলামি মূলনীতি অনুযায়ী বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে সে সমস্যার সমাধান করাই হলো কিয়াস। আল-কুরআন ও হাদিসে কিয়াসকে শরিয়তের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অতএব, হে চক্ষু মানষগণ! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর। (সূরা আল-হাশর: ২)সুতরাং বলা যায় যে, ইজমা ও কিয়াস কোনো বিদআতি নয় বরং ইসলামি শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। যা অনুসরণ করা অবশ্য কর্তব্য।