ইমানের পর ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয় ইবাদত হলো সালাত। আহকাম-আরকানসহ নির্দিষ্ট সমেয় নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিশেষ ইবাদত পালন করাকে সালাত বলে। সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম। বাহ্যিকভাবে সালাত একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত হলেও মূলত এটি একটি আধ্যাত্মিক ইবাদত। কেননা সালাত সবচেয়ে বেশি প্রভাব সৃষ্টি করে মানুষের আত্মার ওপর। সালাত আদায় করার সময় সালাত আদায়কারী এই অনুভূতি লাভ করে যে সে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর মহান আল্লাহ শুধু তার বাহ্যিক দিকটিই দেখছেন না বরং তার মনের ভেতরের সব গোপন বিষয় দেখছেন। এ কারণে ব্যক্তি নিজেকে পবিত্র ও শুদ্ধ করার শিক্ষা পায় সালাত থেকে। সালাতের মাধ্যমে বান্দা পূতপবিত্র হয়ে নিঃশঙ্কচিত্তে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং আল্লাহর সাথে সালাতে ভাবের আদান-প্রদান করে। এজন্যই রাসুল (সা.) বলেন, "সালাত মুমিনের জন্য মিরাজস্বরূপ।” সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভ হয়। মহানবি (সা.) বলেন, "তুমি এরূপে (সালাতের মাধ্যমে) আল্লাহর ইবাদত করবে, যেন তুমি তাকে দেখছে; আর যদি তুমি তাকে দেখতে না পাও, তাহলে তুমি খেয়াল করবে যে, নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।” (বুখারি)সালাতের মাধ্যমে অন্তর বিনয় ও নম্র হয়ে পরিশুদ্ধ হয়। মহান আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ, যারা নিজেদের নামাযে বিনয় ও নম্র।” (সূরা মুমিনুন: ১-২) তাই বলা যায় সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম।