উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম চিত্রে শূন্যস্থানে ইসলামি শরিয়তের তৃতীয় উৎস ইজমা প্রতিস্থাপিত হবে ।
ইজমা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ— একমত হওয়া, ঐক্যবদ্ধ হওয়া, মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে কোনো বিষয় বা কথায় ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা' বলে। ইসলামি পরিভাষায়, শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মতের পুণ্যবান মুজতাহিদগণের (গবেষক) ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলা হয়। ইসলামি শরিয়তে ইজমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল-কুরআন ও হাদিসের পরই এর স্থান। এটি শরিয়তের তৃতীয় উৎস ও অকাট্য দলিল। আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিস দ্বারা ইজমার বৈধতা প্রমাণিত। কুরআন মজিদে উম্মতে মুহাম্মদি তথা বর্তমান মুসলিম জাতিকে শ্রেষ্ঠ ও মধ্যপন্থি উম্মত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইজমার পরোক্ষ দলিলস্বরূপ। শক্তিমত্তা, দুর্বলতা, দৃঢ়তা এবং প্রত্যয় ও সংশয় বিচারে ইজমা চার প্রকার। যথা- ১. সকল সাহাবির ইজমা, ২.নীরবতামূলক ইজমা, ৩. পরবর্তীকালীন ইজমা এবং ৪. মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ের ওপর পরবর্তী লোকদের ইজমা। ওলামায়ে আহনাফ, জমহুর ফুকাহা (বলখ ও বুখারার মাশায়েখসহ) ও উসুলবিদদের মতে, ইজমা অস্বীকারকারী কাফের বলে গণ্য হবে। কেননা ইজমা দ্বারা অকাট্যতা প্রমাণিত হয়। আর সাহাবায়ে কিরামের ইজমা কুরআনের আয়াত এবং খবরে মুতাওয়াতিরের মতো। আর তাঁদের পরবর্তীকালের ইজমা খবরে মাশহুরের অনুরূপ। তাদের দলিল হলো, মহানবি (সা.) বলেছেন- لا تَجْتَمِعُ أُمَّتِي عَلَى الضَّلَالَةِ অর্থাৎ, “আমার উম্মত ভ্রষ্টতার ওপর ঐকমত্য হবে না।”