উদ্দীপকে ইমাম সাহেব বর্ণিত উৎসটি হলো ইজমা। ইসলামি শরিয়তের চারটি উৎস রয়েছে। যথা— কুরআন, হাদিস, ইজমা, কিয়াস। কুরআন ও হাদিসের পরেই ইজমার স্থান। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী ইসলামি শরিয়তের মূল উৎস ২টি। যথা— কুরআন ও হাদিস। সুতরাং যখনই মুসলমান কোনো সমস্যায় পড়বে তখন কুরআন ও হাদিসে এর সমাধান খুঁজবে। কুরআন ও হাদিসে সরাসরি এবং কোনো সমাধান না পেলে তখন প্রথমে ইজমার মাধ্যমে তার ফায়সালা খুঁজতে হবে। তারপরে কিয়াসের মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে। ইজমা কুরআন-সুন্নাহ বহির্ভূত কোনো বিষয় নয় বরং ইজমা কুরআন সুন্নাহ থেকে উৎসারিত আইন। কুরআন সুন্নাহের বিধানের সাথে সামঞ্জন্য রেখেই ইজমা করতে হয়। অন্যথায় ইজমা গ্রহণযোগ্য হবে না।
ইজমা শব্দের অর্থ একমত হওয়া, ঐকমত্য পোষণ করা। পরিভাষায়, শরয়ী কোনো হুকুম বা বিধানের ব্যাপারে একই যুগের উম্মতে মুহাম্মাদির সকল মুজতাহিদদের একমত হওয়াকে ইজমা বলে। ইজমার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা হাদিসেরও এসেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের সামনে কোনো সমস্যা উপস্থিত হলে তা মীমাংসার জন্য কিতাবুল্লাহ (আল-কুরআন) অনুসারে ফায়সালা করবে। যদি আল্লাহর কিতাবে ফায়সালা না পাওয়া যায় তাহলে রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর দিকে দৃষ্টিপাত করবে, আর সুন্নাহতে এমন কোনো বিষয় উদ্ভব হলে মুসলিম উম্মাহর মতৈক্যের (ইজমার) ওপর নির্ভর করবে। (আহমদ) রাসুল (সা.) আরও বলেন, আমার উম্মত গোমরাহির ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না। (ইবনে মাজাহ). তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ইমাম সাহেব ইজমা উৎসটিকেই নির্দেশ করেছেন।