উদ্দীপকে জনাব 'ভ'-এর বর্ণিত বিষয়টি ইমাম মালিকের জীবনী, যা তিনি সংক্ষিপ্তভাবে ব্যাখ্যা করেন।
ইমাম মালিক (র)-এর নাম মালিক বিন আনাস (রা)। তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম আবু আব্দুল্লাহ। তবে তিনি মূল নামেই বিশ্ববিখ্যাত হন। আমৃত্যু মদিনায় অবস্থানের জন্য তাঁর উপাধি ছিল 'ইমামু দারিল হিজরাত'। ইমাম মালিক (র) ৯৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব কাটে মদিনায় নিজ পরিবারে। যৌবনের প্রারম্ভে মক্কায় রবিয়াতুর রায়ের কাছে ইমাম মালিক ফিকহ অধ্যয়ন করেন। এক্ষেত্রে খুব কম সময়েই তিনি বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করেন। যার জন্য তিনি প্রথম যৌবনেই ফতোয়া দান ও রিওয়াতের অনুমতি লাভ করেন।
হাদিস ও ফিকহশাস্ত্রে অগাধ জ্ঞানার্জন করে ইমাম মালিক (র) মদিনার মসজিদে নববিতে বসেই শিক্ষাদান শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে দারস ও ফতোয়া দিতেন। মিসর, আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন তার কাছে হাদিস ও ফিকহের জ্ঞান লাভের জন্য আগমন করত। আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ, ইমাম শাফেয়ি প্রমুখ বরেণ্য ব্যক্তিগণ তাঁর কাছে ফিকহ ও হাদিসের শিক্ষা গ্রহণ করেন। মদিনাবাসী হওয়ার সুবাদে গোড় থেকেই তিনি হাদিস সংগ্রহ শুরু করেন। এরপর সংগৃহীত বিপুল হাদিস থেকে যাচাই-বাছাই করে মাত্র ১৭২০ খানা হাদিসের সমন্বয়ে ইমাম মালিক (র) মুসলিম আইনের হাদিসভিত্তিক সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ 'মুয়াত্তা' প্রণয়ন করেন। এছাড়াও কিতাবুল মাজালিসাত, কিতাবুল মানাসিক, কিতাবুস সুনান তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। 'ফিকহি মালিকি' তাঁর উদ্ভাবিত মাসয়ালাসমূহের বিশেষ সংকলন। ১৭৯ হিজরিতে ইমাম মালিক ইন্তেকাল করেন। এই মনীষী ইসলামি আইনশাস্ত্রে অনেক অবদান রাখেন।