মামুনের ইবাদাতটি হলো— সাওম। আর এর প্রতিদান সম্পর্কে মহান আল্লাহ হাদিসে কুদসিতে বলেছেন, “রোযা আমারই জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেব।” (বুখারি)
সাওম পালনের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করা যায়। সব ধরনের অন্যায় কাজ (গুনাহ) বর্জন করা এবং যাবতীয় কল্যাণময় কাজ (সাওয়াবের কাজ) করার নামই তাকওয়া। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন— “হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সাওম ফরজ করা হলো, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের (নবিদের উম্মত) ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।” (সূরা আল-বাকারা : ১৮৩) সাওম পালনকারী একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য সাওম পালন করে। সে কারণে আল্লাহ তায়ালা সাওম পালনকারী ব্যক্তিকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাই আল্লাহ তাকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করবেন। সাওম পালনকারী ব্যক্তির পূর্বের গুনাহ আল্লাহ মার্জনা করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইমান ও আত্মবিশ্লেষণের সাথে সাওম আদায় করল সে পূর্বকৃত গুনাহ মার্জনা করিয়ে নিল।” (বুখারি ও মুসলিম) রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, “যারা রমজানের প্রথম হতে শেষপর্যন্ত সাওম রেখেছে, তারা ওই দিনের ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তাদের মাতা তাদেরকে নিষ্পাপরূপে প্রসব করেছিলেন ।”
রমজান মাসে সাওম পালনকারী ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্যধারণপূর্বক সর্বপ্রকার পাপকার্য, পানাহার এবং ইন্দ্রিয় তৃপ্তি হতে বিরত থাকে। সেজন্য আল্লাহ তাআলা তাকে বেহেস্ত দান করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “এ মাস ধৈর্যের মাস এবং ধৈর্যের বিনিময় হচ্ছে বেহেস্ত।” (মিশকাত)
সুতরাং সাওম পালনের মাধ্যমে মামুন পরকালে আল্লাহর দিদার ও চিরশান্তির আবাস জান্নাত লাভ করবে এটা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করা যায়।