যচিত্রে 'খ'-এ যে বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে সেটি হলো যুক্তিপূর্ণ।অর্থাৎ হানাফি মাযহাবের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো হানাফি মাযহাব যুক্তিপূর্ণ। হানাফি মাযহাবে কুরআন ও সুন্নাহর বিধানসমূহকে অত্যন্ত দৃঢ় ও যুক্তিগ্রাহ্য দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। হানাফি মাযহাবে প্রতিটি মাসায়ালার ব্যাখ্যায় কুরআন ও হাদিসের আলোকে কিয়াস ও যুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কিয়াসভিত্তিক রায় প্রদান ইমাম আবু হানিফা (র.) যুক্তিগ্রাহ্য ও শক্তিশালী মতামত গ্রহণ করতেন। অন্যদিকে, ইমাম শাফেয়ী (র.) প্রতিষ্ঠিত শাফেয়ী মাযহাবে কিয়াসের নীতি খুব কম গ্রহণ করা হয়েছে। ইমাম শাফেয়ী (র.) মাসয়ালা নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও হাদিসের প্রকাশ্য অর্থের প্রয়োগকে প্রাধান্য দিতেন। দলিল ও প্রমাণাদি পদ্ধতির প্রয়োগ করতেন। এছাড়াও তিনি ইসতিসলাহ ও ইসতিহসান পদ্ধতি বর্জন করতেন। অন্যদিকে হানাফি মাযহাবে ইসতিহসান নীতির প্রবর্তন করা হয়েছে। হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে শাফেয়ী মাযহাবে অনেকটা কঠিন নীতি গ্রহণ করা হয় আর হানাফি মাযহাবে সহজ-সরলতার নীতি গ্রহণ করা হয়। হানাফি মাযহাবে সকল হুকুম নসের মাধ্যমে সাব্যস্ত এবং যেক্ষেত্রে ইমামগণের মতভেদ রয়েছে সেক্ষেত্রে তিনি শক্তিশালী ও প্রামাণ্য মতটি গ্রহণ করতেন। আর শাফেয়ী মাযহাবে ইমাম শাফেয়ি (র.) কুরআনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের দিকে না তাকিয়ে তিনি ظَاهِرُ النَّص কে প্রাধান্য দিতেন।উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, চিত্রে 'খ' এর সাথে অর্থাৎ হানাফি মাযহাবের সাথে ইমাম শাফেয়ী (র.) প্রতিষ্ঠিত শাফেয়ী মাযহাবের বেশকিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে।