উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় বিষয়টি হলো আল-ফিকহ। ফিকহ শব্দের অর্থ অবগত হওয়া, অনুধাবন করা, জানা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, কুরআন-সুন্নাহ থেকে বিবেকবুদ্ধি দ্বারা উদ্ঘাটিত জ্ঞানকে ফিকহ বলে। মানুষের ব্যক্তি জীবন ও সমাজজীবন থেকে শুরু করে সার্বিক জীবনে ইসলামি মূলনীতির আলোকে সিদ্ধান্ত প্রদানই হলো ইলমে ফিকহের বিষয়বস্তু। বাস্তবতার নিরিখে বলা যায়, কুরআন ও হাদিসের বিধান বাস্তবজীবনে বাস্তবায়নের নিমিত্ত দ্বীনকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে ফিকহের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এ শাস্ত্র ইসলামের বিভিন্ন বিধানকে সহজবোধ্য করে প্রামাণ্য দলিল ও যৌক্তিকতা ব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আমল উপযোগী করেছে। ফিকহশাস্ত্র ইবাদতের শরয়ী মর্যাদা নিরুপণ করেছে। ফিকহশাস্ত্র না থাকলে সাধারণ মানুষের পক্ষে সঠিকভাবে ইবাদত পালন করা কঠিন হতো। কোন ইবাদতের গুরুত্ব কতটুকু তারা তা জানত না। কোন ইবাদত কীভাবে পালন করতে হবে তা জানত না। এছাড়াও সমাজজীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যেমন- বিচার, দণ্ডবিধি, বিবাহ সম্পর্কিত মাসয়ালা, যাকাত বিধান ইত্যাদি বিষয়েও ফিকহশাস্ত্র মানুষকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। সামাজিক জীবনে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান প্রবর্তনের মাধ্যমে সমাজজীবনকে বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করা হয়েছে।সুতরাং বলা যায় যে, ব্যক্তিগত ও সমাজজীবনসহ জীবনের সার্বিক বিষয়ে মানুষের জীবনে ফিকহের গুরুত্ব অপরিসীম।