ইসলামিক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা প্রমাণে উক্ত আইনশাস্ত্র তথা ইলমে ফিকহের ভূমিকা অপরিসীম।
আল কুরআনের বিধান ব্যাবহারিক জীবনে প্রতিপালনের লক্ষ্যে যে শাস্ত্র ধর্মীয় বিধিনিষেধসমূহ যথাযথভাবে সংকলিত হয়েছে তাকে ফিক্হশাস্ত্র বলে। ইসলাম একটি গতিশীল জীবনব্যবস্থা। তাই এর বিধিবিধানও যুগের চাহিদানুসারে বিস্তৃতি লাভ করে। যার ফলশ্রুতিতে ফিক্হশাস্ত্রের উৎপত্তি লাভ করে। মহানবি (স)-এর জীবদ্দশায় সাহাবিগণ যেকোনো সমস্যার সমাধান তাঁর কাছ থেকে পেতেন। মহানবি (স)-এর কাছে উক্ত সমস্যার সমাধান না থাকলে ওহির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তার সমাধান জানিয়ে দিতেন। তাই ঐসময়ে ফিকহশাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়নি। অর্থাৎ, ইসলামের প্রচার ও প্রসারের সময় রাসুলুল্লাহ (স) যখন যে সমস্যায় পড়তেন আল্লাহ কুরআন নাজিল করে তার সুষ্ঠু সমাধান দিতেন।
রাসুল (স)-এর জীবদ্দশায় নতুন নতুন সমস্যা সমাধানে যে সহজ ও স্বাভাবিক পন্থা ছিল, তাঁর ইন্তেকালে তা বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি নতুন- নতুন সভ্যতা, জাতি ও সংস্কৃতি ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়ায় আরও নতুন নতুন সমস্যা ও সংকট সৃষ্টি হয়। সাহাবায়ে কিরাম কুরআন-সুন্নাহর ওপর নির্ভর করে বুদ্ধিভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান দেন। পরবর্তীকালে তাদেরকে ফকিহ হিসেবে গণ্য করা হয়। তাদের এসবমাসলা-মাসায়েল তাবেয়িগণের সময় গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ হয়। আর এই শাস্ত্রই হলো ফিক্হশাস্ত্র। সুতরাং, একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, ফিকহশাস্ত্র কোনো গতানুগতিক গতবাঁধা শাস্ত্র নয়, যুগের প্রয়োজনের আলোকেই এটি উৎপত্তি লাভ করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, যুগের চাহিদানুযায়ী ইসলামকে গতিশীল রাখার জন্য এবং সকল সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধান দেওয়ার জন্য ইলমুল ফিকহের ভূমিকা অপরিহার্য।