উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসটি যথার্থ ও সঠিক, যা দ্বারা ফিকহশাস্ত্রের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।
ইসলামি শরিয়তের ব্যাবহারিক দিকের প্রধান ভিত্তি হলো ফিকহশাস্ত্র । ফিকহ ব্যক্তির জীবন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ করতে পারে। ইসলামি হুকুম আহকাম অনুশীলনের মাধ্যমে সে আল্লাহর প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়। সেজন্য পার্থিব জীবনে ইসলামি জীবনযাপন করে পরকালীন মুক্তি এবং পার্থিব শান্তি লাভের জন্য ফিকহের জ্ঞানার্জন অত্যাবশ্যক। এর মাধ্যমে ব্যক্তি দু'জগতেই প্রভূত কল্যাণ লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকে মাওলানা আওয়ার শাহ্ কাশ্মিরী (র) একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ যার মঙ্গল করতে চান, তাকে দীনের সূক্ষ্ম জ্ঞান দান করেন । দীনের সূক্ষ্ম জ্ঞান দ্বারা মূলত ফিকহের জ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে। ফিকহ ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের প্রতীক। এর চর্চা, সাধনা, গবেষণা ও জ্ঞানার্জন মানুষকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে গড়ে তোলে। এর ফলে শরিয়তের সব বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ সম্ভব হয়। ইমাম বায়হাকি (র) বর্ণনা করেছেন, “প্রত্যেক বস্তুরই খুঁটি রয়েছে। আর দীন ইসলামের খুঁটি হলো ফিকহ”। সর্বসাধারণের জন্য দীনকে সহজবোধ্য করার এক অসাধারণ পদ্ধতি হলো ফিকহ। এর মাধ্যমেই ইসলামি হুকুম-আহকাম অনুশীলন করে আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়া যায়।
সর্বোপরি, ইসলামি শরিয়তের পূর্ণতা, সর্বজনীনতা, সর্বোকালোপযোগিতা এবং সর্বাধিক যৌক্তিক মানবিকতার বাস্তব নিদর্শন হলো ফিকহশাস্ত্র । সুতরাং কোনোভাবেই একে উপেক্ষা করা যায় না, এর প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। এটির জ্ঞানে দীক্ষিত হওয়া মানুষ আল্লাহর প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়।