উদ্দীপকে বর্ণিত আনিসের অনুসরণকৃত মাযহারটি হানাফি মাযহাব। সহজ-সরল ও যৌক্তিক বিধি-বিধানের কারণে এ মাযহাব শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা পেয়েছে।
ইমাম আবু হানিফা হানাফি মাযহাবের প্রচলন করেন। অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়ার কারণে এই মাযহাবটি মুসলিম বিশ্বে সর্বাধিক প্রসিদ্ধি ও প্রসার লাভ করেছে। বর্তমানে বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশ মুসলিম হানাফি মাযহাবের অনুসারী।
উদ্দীপকে বর্ণিত আনিসের মাযহাবে নামাজে উচ্চস্বরে আমিন বলা বা রুকু ও সিজদা থেকে দাঁড়ানোর সময় হাত তোলা হয় না। হানাফি ফিকহের মাসয়ালাসমূহ তত্ত্ব, তথ্য, হিকমত ও কল্যাণকামিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। অন্য মাযহাবে এ ধারণা পোষণ করা হয় যে ইসলামি শরিয়তের বিভিন্ন হুকুম-আহকাম কোনো কল্যাণকামিতা বিবেচনায় প্রবর্তিত হয়নি। এর বিধানগুলো আল্লাহ ঘোষণা করেছেন বলেই মানতে হবে। অন্যদিকে, হানাফি মাযহাবে ইসলামের প্রতিটি বিধানের পেছনেই কল্যাণচিন্তা রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। আবার অন্যান্য মাযহাবের তুলনায় হানাফি মাযহাব খুবই সহজ। পাশাপাশি এই মাযহাবে কুরআন-হাদিসের বিধানসমূহকে অত্যন্ত দৃঢ় ও যুক্তিগ্রাহ্য দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া হানাফি ফিকহ ইমাম আবু হানিফা (র) মানুষের পার্থিব প্রয়োজনাদি তথা লেনদেন ও আচরণের ক্ষেত্রে গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও তত্ত্ব উপলব্ধির সাথে কাজ করেছেন। যেমন— এ মাযহাবে বিয়ের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে মত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে। যা অন্য মাযহাবে নেই। এসব কারণেই হানাফি মাযহাব এত জনপ্রিয়। আর এসব বিষয়ই হানাফি মাযহাবের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।