শ্রেণিশিক্ষকের আলোচনায় উঠে আসা ফিক্হবিদের জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা কর।
উত্তর: শ্রেণিশিক্ষকের আলোচনায় প্রসিদ্ধ ফিকহশাস্ত্রবিদ ইমাম আৰু হানিফা (র.)-এর কথা বলা হয়েছে। তাঁর জীবন ও কর্ম ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইমাম আবু হানিফা (র) হিজরি ৮০ সন মোতাবেক ৬৯৯ মতান্তরে ৭০০ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের বিখ্যাত কুফা নগরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তাঁর পিতা মারা যান। সন্তানের লালন-পালন ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাঁর মা হযরত ইমাম জাফর আস সাদিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ফলে সেখানেই ইমামের শৈশবকাল অতিবাহিত হয় । ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) ফিক্হশাস্ত্রে অদ্বিতীয় পণ্ডিত ছিলেন। ফিক্হশাস্ত্র ছাড়াও ইলমে হাদিস, ইলমে কালাম, ইলমে বালাগাত, ইলহে নাহু, ইলমে সরফ, ইলমে তাফসির প্রভৃতি বিষয়ে তিনি গভীর পান্ডিত্য অর্জন করেন। পিতার কাপড়ের ব্যবসায়ের মধ্য দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। নগরে-বন্দরে বিভিন্ন স্থানে তিনি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। সেকালে তাঁর সমপর্যায়ের ধনী খুব কমই ছিল। নিজস্ব এ অর্থানুকূল্যের দরুন তিনি সে সময়ে সামাজিক ও কল্যাণমূলক এবং বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেন। ইমাম আবু হানিফা (র.) সর্বপ্রথম ইলমে ফিক্হ সংকলনের মাধ্যমে এবং তা সর্বাধিক যুক্তিযুক্ত ও শক্তিশালী দলিলের ভিত্তিতে স্থাপন করায় দলে দলে লোকজন তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণ করতে থাকে। তাঁর মাযহাবের নাম হয় হানাফি মাযহাব। উল্লেখ্য, এ মাযহাব শক্তিশালী ও যুক্তিযুক্ত বলেই বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশ মুসলমান এ মাযহাবের অনুসারী। উদ্দীপকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক বলেন যে, পৃথিবীতে অধিকাংশ মুসলিম হানাফি মাযহাবের অনুসারী। কারণ, আবু হানিফার উদ্ভাবিত মাসয়ালা ছিল অধিকতর গ্রহণযোগ্য। ১৫০ হিজরি মোতাবেক ৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা মানসুর কর্তৃক বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে এ মহান ব্যক্তির জীবনাবসান ঘটে। বাগদাদের খাইযরান নামক স্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয় । সুতরাং তাঁর জীবন ও কর্ম ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ।
HSC Islamic Studies 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic Studies 2nd Paper · সৃজনশীল
শ্রেণিশিক্ষকের আলোচনায় উঠে আসা ফিক্হবিদের জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আ…
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর