শরিফার বক্তব্যে বিশ্বভ্রাতৃত্বের উল্লেখ আছে।পৃথিবীর সব মানুষ একই স্রষ্টার সৃষ্টি এবং একই পিতামাতার সন্তান। আদি পিতা হযরত আদম (আ) ও আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ) থেকেই আল্লাহ তায়ালা সব মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এ দিক বিবেচনায় পৃথিবীর সব মানুষ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। এর নাম বিশ্বভ্রাতৃত্ব। শরিফার বক্তব্যে এ বিষয়টি ফুটে উঠেছে।উদ্দীপকের শরিফা তার স্বামী আবিদকে বলেন- সব মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি আরও বলেন যে, মহানবি (স) বলেছেন- 'তোমরা সবাই আদম থেকে এবং আদম মাটি থেকে সৃষ্ট।' (তিরমিযি) তাই সব মানুষ ভাই ভাই। শরিফার এ বক্তব্যের মাধ্যমে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বভ্রাতৃত্বের ধারণা অনুযায়ী জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে পৃথিবীর সব মানুষ ভাই ভাই। তাই ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ না করে সব মানুষের সাথেই উত্তম আচরণ করতে হবে। সবার বিপদে-আপদে এগিয়ে আসতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে। মহানবি (স) যখন মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস ছিল। রাসুল (স)-এর প্রতিবেশীদের অনেকেই অমুসলিম ছিল'। তিনি তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করেছেন। নিজের বাড়িতে ভালো খাবার রান্না হলে প্রতিবেশীদের পরিবেশন করেছেন। তাঁর একজন ইহুদি শিশু খাদেম ছিল। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, এক আল্লাহর সৃষ্টি এবং আদমের সন্তান হিসেবে পৃথিবীর সব মানুষ ভাই ভাই। এটিই বিশ্বভ্রাতৃত্ব। এ দিক বিবেচনায় মুসলিম-অমুসলিম ভেদাভেদ না করে সব মানুষের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে।