আনিসের উক্তিতে বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রকাশ পাওয়ায় তার বক্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীর সব মানুষ একই স্রষ্টার সৃষ্টি এবং একই পিতা-মাতার সন্তান। আদি পিতা হযরত আদম (আ) ও আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ) থেকেই আল্লাহ তায়ালা সব মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এদিক বিবেচনায় পৃথিবীর সব মানুষ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। এর নাম বিশ্বভ্রাতৃত্ব, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে ।
উদ্দীপকে আনিস বলেন, আমরা সবাই হযরত আদম (আ) ও হাওয়া (আ) এর সন্তান। তার এ বক্তব্যে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ ভ্রাতৃত্ব অনুযায়ী দেশ, ধর্ম, বর্ণসহ কোনো কিছুতে ভেদাভেদ না করে সব মানুষের সাথেই উত্তম আচরণ করতে হবে। সবার বিপদে-আপদে এগিয়ে আসতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে। মহানবি (স) যখন মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস ছিল। রাসুল (স) তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করেছেন। বিশ্বভ্রাতৃত্বের ধারা পৃথিবীবাসী বিস্তৃত। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 'হে মানুষ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। আর তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রভুক্ত বানিয়েছি, যেন তোমারা পরস্পরকে চিনতে পারো।' (সুরা আল হুজুরাত : ১৩) রাসুল (স) বলেন, 'সব মানুষই আদম (আ) এর বংশধর, আর আদম মাটি থেকে সৃষ্ট।' (তিরমিযি) বিশ্বভ্রাতৃত্বের কল্যাণেই অন্যায় অত্যাচার, বৈষম্য প্রভৃতি দূর করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, ভ্রাতৃত্ব সম্পর্কিত অর্থাৎ বিশ্বভ্রাতৃত্ব সম্পর্কিত আনিসের উক্তিটি বাস্তবসম্মত, যার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম । তাই আমাদের উচিত বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া।