বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামি উখওয়াতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সবচেয়ে বেশি। কুরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা করা হলো-
ইসলামি আদর্শভিত্তিক ভ্রাতৃত্ব দেশ, কাল, গোত্র, বর্ণ, ভাষা এবং আঞ্চলিকতা সত্যিকারভাবে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব এবং উদার মানবতা ইসলামি ভ্রাতৃত্বের ভিত্তির ওপরই গড়ে উঠতে পারে। কুরআনে বর্ণিত আছে- “মানুষ ছিল একই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা আল-বাকারা : ২১৩) মানুষের ভাষা, বর্ণ ও গোত্রের পার্থক্য পরিচয়ের জন্য বিভেদ বা বিবাদের জন্য নয়। এ মর্মে আল্লাহ বলেন- “হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে একজন নর ও নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করে দিয়েছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার।” (সূরা হুজুরাত : ১৩)
এমনকি মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কোনো বিশেষ গোত্র বা বিশেষ সম্মান ও জাতিগোষ্ঠীর কাছে প্রেরণ করা হয়নি, তাকে প্রেরণ করা হয়েছে গোটা মানবজাতির জন্য। আল্লাহ বলেন- “আপনি বলুন, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের কাছেই রাসুল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।” (সূরা আরাফ : ১৫৮)
সুতরাং সমগ্র বিশ্বের মানুষের প্রতি কল্যাণ কামনা, সমবেদনা, কর্তব্য পালন করা যেকোনো মুসলমানের উর্দুওয়াতের দাবি তথা ইমানের দাবি। রাসুল (সা.) বলেন- “আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো বান্দার সাহায্য করেন যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে রত থাকে।” (বুখারি ও মুসলিম) সুতরাং ইসলামি উন্মুওয়াতের দাবি পূরণ হলেই বিশ্বভ্রতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও ইসলামি ভ্রাতৃত্বের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই । ইসলামি ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বিশ্বশান্তিও প্রতিষ্ঠিত হবে।