ফাহিমা যে রাষ্ট্রে বাস করে সে রাষ্ট্রের নাগরিকেরা রাষ্ট্রের প্রতি তাদের কর্তব্যসমূহ যথাযথভাবে পালন করে। এর থেকে অনুমিত হয়, ফাহিমা ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাস করে। কারণ নাগরিকের এরকম বৈশিষ্ট্য ইসলামি রাষ্ট্রেই পরিলক্ষিত হয়।
ইসলামি রাষ্ট্রের কতকগুলো নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ইসলামি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যাবলি নিম্নরূপ- ১. ইসলামি রাষ্ট্রের আদর্শ হলো এর শাসনতন্ত্র, বিধি-বিধান আল্লাহ প্রদত্ত এবং রাসুল (সা.) তাঁর বাস্তব জীবনে পালন করে এর বাস্তব ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আল্লাহ প্রদত্ত বিধান ন্যায়বিচার ও ন্যায়নীতিভিত্তিক। ২. ইসলামি রাষ্ট্র কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা, ভাষা বা বর্ণভিত্তিক নয়, এটি আদর্শিক চিন্তাভিত্তিক। ৩. ইসলামি রাষ্ট্রে আল্লাহ তায়ালার বিধিবিধানই জারি থাকবে, অন্যকোনো মানুষের নয়। সর্বোত্তম, সর্বশক্তিমান আল্লাহর বিধান সর্বোত্তম, সর্বসুন্দর নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ। ৪. ইসলামি রাষ্ট্রে সকল মানুষ সমান। বর্ণ, ভাষা বা গোত্রের ভিত্তিতে কারও শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো জ্ঞান, বুদ্ধি, যোগ্যতা এবং সর্বোপরি তাকওয়া ও বিশ্বস্ততা। ৫. ইসলামি রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, দ্বীনের আহকাম প্রতিষ্ঠা করা। ৬. ইসলামি রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ৭. ইসলামি রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র। ৮. ইসলামি রাষ্ট্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো যে, এর সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার; কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সরকারের নয়।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলামি রাষ্ট্রে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ। মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। নিজের মনগড়া কোনো আইন থাকবে না। এখানে সবকিছুই হবে কুরআন, সুন্নাহ তথা ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক। এগুলোই ফাহিমের রাষ্ট্র তথা ইসলামি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য।