ইসলামি রাষ্ট্রে সকল মুসলিম নাগরিক রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে সমান অধিকার সম্পন্ন। নাগরিক অধিকার পর্যায়ে নিম্নলিখিত অধিকারসমূহ গণ্য হয়ে থাকে- ১. সামাজিক অধিকার, ২. অর্থনৈতিক অধিকার ও ৩. রাজনৈতিক অধিকার।
সামাজিক অধিকার বলতে বোঝানো হয়েছে- ১. মানুষের জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জীবনের নিরাপত্তা লাভ। ইসলামের রাষ্ট্রীয় আইন ও বিধান এর ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। ২. মানুষের জীবনে নিরাপত্তা প্রদানের সাথে সাথে তার ইজ্জত আবুর নিরাপত্তা বিধান ইসলামি রাষ্ট্রের করতে হবে। ৩. প্রত্যেক নাগরিকেরই বৈধ উপায়ে উপার্জন করার এবং উপার্জনকৃত সম্পদের মালিক হওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ৪. ধনী-গরিব, অভিজাত-নীচ বংশজাত, শাসক ও শাসিত সকলেই আইনের দৃষ্টিতে সমান। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ৫. প্রত্যেক নাগরিকেরই বাকস্বাধীনতার অধিকার রয়েছে। ৬. প্রত্যেক নাগরিকেরই শিক্ষা লাভের অধিকার রয়েছে। শিক্ষা সম্পর্কে ইসলামের নীতি ও আদর্শ যেকোনো ধরনের সরকার অপেক্ষা অধিকতর দৃঢ় ও প্রতিজ্ঞ এবং বলিষ্ঠ। মহানবি (সা.) বলেন- طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضةعَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ ৭. ইসলামি রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের নিরাপদে বসবাস করার অধিকার সংরক্ষিত। ৮. ইসলাম নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর যথাযথ গুরুত্ব দিয়েছে। বিনা বিচারে বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কাউকে আটক করা কিংবা শাস্তি দেওয়া যাবে না। যেকোনো শান্তির ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ তাকে দিতে হবে। ৯. ইসলামি রাষ্ট্রে নাগরিকদের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার থাকবে। শান্তিপূর্ণভাবে ও স্বধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি ও ধর্মকর্ম পালনে কোনো বাধাবিঘ্ন থাকবে না। অর্থনৈতিক অধিকার বলতে বোঝানো হয়েছে, পেশা নির্বাচনের অধিকার, চাকরি করার অধিকার, মৌলিক চাহিদা পূরণের অধিকার ও কর্মসংস্থানের অধিকার। রাজনৈতিক অধিকার বলতে বোঝায়, মতামত দানের অধিকার, ভোটাধিকার, প্রার্থী হওয়ার অধিকার, সমালোচনার অধিকার, ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অধিকার, সভা-সমিতির অধিকার, সংগঠনের স্বাধীনতার অধিকার, বিশেষ বিশ্বাসের স্বাধীনতার অধিকার ইত্যাদি।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে নাগরিকদের অধিকার বলতে মূলত উল্লিখিত তিন ধরনের অধিকারকে বোঝানো হয়েছে।