সকল সংষ্ট্রেরই একটি গঠনপণালি থাকে। ইসলামি রাষ্ট্রেরও নির্দিষ্ট গঠনপ্রণালি রয়েছে।
ইসলামি রাষ্ট্রে জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন আমির বা রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন। আমির বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত করতে হবে এমন সক্ষম পুরুষকে, যিনি যোগ্য, সৎ, আল্লাহ ভীরু ও খাঁটি ইমানদার। ইসলামি রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্র হবে কুরআন ও হাদিস। এ রাষ্ট্রের প্রতিটি বিধিবিধান প্রণীত ও পরিচালিত হবে কুরআনের আলোকে ও হাদিসের নির্দেশনানুযায়ী। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছা কিংবা স্বার্থের পরোয়া এখানে করা হবে না। রাষ্ট্রপ্রধানকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যাবতীয় কর্মকান্ডে পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি মজলিস-ই-শূরা বা পরামর্শ সভা থাকবে। জনগণের পূর্ণ সমর্থন ও রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মতিক্রমে মজলিস-ই-শূরার সদস্যবৃন্দ নির্বাচিত ও নিযুক্ত হবেন। যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে রাষ্ট্রপ্রধান উক্ত সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে তাদের সুনিশ্চিত অভিমত নিয়ে শরিয়তের নির্দেশ মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। এ মর্মে মহান প্রভুর নির্দেশ, "মুসলমানদের সকল ব্যাপারই পারস্পরিক পরামর্শক্রমে সুসম্পন্ন হয়।" রাষ্ট্রপ্রধান ও মজলিস-ই-শুরা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, তা ইসলামি মূল্যবোধ মোতাবিক কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক হবে। এখানে ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ বা কৃতিত্ব অর্জনের জন্য ইসলামি বিধান বহির্ভূত কিছু করা যায় না। সরকার পরিচালনা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের উন্নতি-অগ্রগতি সবকিছুতে ইসলামি শরিয়ত প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ইসলামি রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য।
অতএব নিঃসন্দেহে বলা যায়, ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় কুরআন ও সুন্নাহর আইন জারি ও প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য। মানুষের গড়া কোনো আইন সেখানে স্থান পায় না। এরূপ ইসলামি রাষ্ট্রই ইহলৌকিক ও পারলৌকিক শান্তি ও মুক্তি দিতে সক্ষম। উদ্দীপকের মতিনের বক্তব্যে এরূপ রাষ্ট্রব্যবস্থার কথাই প্রতিফলিত হয়েছে।