রাষ্ট্রপ্রধানের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো আল্লাহর সার্বভৌমত্বের সংরক্ষণ করা। আল্লাহর খেলাফতের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে- দ্বীন ইসলামকে সুদৃঢ় ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করা, দ্বীনকে পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়িত করা, দ্বীনের মর্যাদা, ঐতিহ্য-আদর্শ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। আর এ কাজের জন্য প্রধান দায়িত্বশীল হচ্ছেন খলিফা।
রাষ্ট্রপ্রধানের আর একটি কর্তব্য হচ্ছে বিবাদমান পক্ষসমূহের ওপর আল্লাহর আইন কার্যকর করা। ঝগড়া-বিবাদ ও যাবতীয় সমস্যার সমাধান ও ফয়সালায় ইসলামি আইন অনুসরণ করা। ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের জীবনকে সকল প্রকারের ভয়ভীতি ও বিপদ-আশঙ্কা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করে স্বাধীন-নির্বিঘ্নে জীবনযাপনের নির্ভরযোগ্য সুযোগ দেওয়া খেলাফত ব্যবস্থার অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। আল্লাহ কর্তৃক ঘোষিত হারাম ও অবৈধ কাজ যাতে কেউ করতে না পারে, কোনো নাগরিকই যেন স্বীয় ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। বৈদেশিক ও বিজাতীয় আক্রমণ ও আগ্রাসন থেকে দেশকে, দেশের জনগণকে এবং তাদের জীবন-সম্পদ, মান-ইজ্জত রক্ষা করা এবং এজন্য প্রয়োজনীয় শক্তি অর্জন ও সামর্থ্য সংগ্রহ করা রাষ্ট্রপ্রধানের অন্যতম কর্তব্য। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক রাষ্ট্রের কর, খাজনা ও অন্যান্য সরকারি পাওনা সঠিকরূপে নির্ধারণ করা ও তা আদায় করার ব্যবস্থা করাও রাষ্ট্রপ্রধানের অন্যতম দায়িত্ব। রাষ্ট্রের বাইতুল মাল সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রপ্রধানের আর একটি দায়িত্ব। বাইতুল মাল থেকে যাকে যা দেওয়া হবে তার পরিমাণ নির্ধারণ এবং যথাযথভাবে তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা, অপচয় না করা ইত্যাদি খেলাফত প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। দায়িত্বশীল নির্বাহী কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, তাদের কাজে সুযোগ সৃষ্টি করা, তাদের নিকট থেকে কাজ বুঝে নেওয়া, তাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা খলিফার দায়িত্ব ও কর্তব্য। পথভ্রষ্ট ও বিপদগামীদেরকে ইসলামের সুমহান পথে ফিরে আনার পদক্ষেপ গ্রহণও খলিফার দায়িত্ব। অর্থাৎ দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের পুরো দায়-দায়িত্বটাই খেলাফত ব্যবস্থার ওপর ন্যস্ত। সমস্ত জাতীয় ও সামষ্টিক ব্যাপারে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হওয়া, পরিস্থিতির অধ্যয়ন, পর্যবেক্ষণ ও তদনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ, যেন সার্বিকভাবে গোটা উম্মাহ রক্ষা পায় এবং মিল্লাত সংরক্ষিত থাকে।
উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে যে, ইসলামি খেলাফতের স্বর্ণযুগ ছিল খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগ। তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে ছিলেন সদা সচেতন। বস্তুত ইসলামি রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংরক্ষণ, নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রের কল্যাণ, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা, প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনা সর্বোপরি আল্লাহর বিধান জারি ও সংরক্ষণ করাই রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব ও কর্তব্য।