অসাম্প্রদায়িক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে উক্ত চুক্তি তথা মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম।
মদিনায় বহু সম্প্রদায় বসবাস করত। যেমন— ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক ও মুসলমান। এদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল না এবং কোনো কোনো গোত্র দীর্ঘকাল যাবৎ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত। মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে গোত্রে গোত্রে সম্প্রীতি স্থাপন করা হয় এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা হয়। ফলে মদিনা একটি অসাম্প্রদায়িক কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। আর এসবের নেতৃত্ব দেন মহানবি (সা.)। বর্তমানেও কোনো রাষ্ট্র যদি বিভিন্ন জাতি সত্তার নাগরিক থাকে, তাহলে সেখানে মদিনা সনদের আলোকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। মদিনা সনদকে Role Model হিসেবে গণ্য করে সে আলোকে রাষ্ট্রের নীতিমালা ও করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। যদি তা করা যায় তাহলে ওই রাষ্ট্র অসাম্প্রদায়িক ও কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে। উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে, সমাজসেবিকা মায়মুনা বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের লোকদের স্বার্থ সংরক্ষণের নিমিত্তে একটি সার্বজনীন চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করেন। চুক্তিতে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন, কেউ কারো ওপর হস্তক্ষেপ না করা, বিপদে এগিয়ে আসা ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করা হয়, যা মদিনা সনদের সাথে তুলনীয়।
সুতরাং বলা যায়, অসাম্প্রদায়িক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে উক্ত চুক্তি তথা মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম।