অধ্যাপক সালামের দ্বিতীয় দিনের বক্তব্যে কাফিরদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তি আল্লাহ, রাসুল, আখিরাত, আসমানি কিতাব, জান্নাত, জাহান্নাম, ফেরেশতা ইত্যাদি ইসলামের মহাসত্যগুলোকে অস্বীকার, অবিশ্বাস বা প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকেই কাফির বলা হয়। কারণ কাফিররাই পরকালের অনন্ত জীবনের জবাবদিহিতার প্রতি অনীহা প্রদর্শন করে এবং পরকালে তাদের পরিণতি হলো জাহান্নাম ।
মহান আল্লাহ কাফিরদের সম্পর্কে বলেন, “আল্লাহ তাদের অন্তঃকরণ ও শ্রবণশক্তিতে মোহরাঙ্কিত করে দিয়েছেন এবং তাদের চক্ষুসমূহে পর্দার আবরণ, আর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।” (সূরা আল বাকারা : ৭) আল্লাহ তাদের প্রতি দুনিয়া ও আখিরাতে ভয়ংকর শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। দুনিয়ায় তাদের অন্তরসমূহে ও শ্রবণশক্তির ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন। তাদের দৃষ্টিশক্তির ওপর আবরণ টেনে দিয়েছেন । ফলে কাফিররা ভালো-মন্দ বিচার করতে পারে না । সত্য-মিথ্যার পার্থক্য তাদের কাছে দৃশ্যহীন। ফলশ্রুতিতে তারা আর কোনো সৎকর্ম করার সক্ষমতা রাখে না । সত্যবিমুখ আল্লাহদ্রোহী মানসিকতা ও কার্যক্রমের জন্য আখিরাতে তারা চিরস্থায়ী ধ্বংসে নিপতিত হবে। তাদের চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে ।
উদ্দীপকের অধ্যাপক সালাম শ্রেণিতে আলোচনায় দ্বিতীয় দিনের বক্তব্যে অনন্ত জীবনের জবাবদিহিতার প্রতি অনীহা প্রদর্শন ও স্রষ্টার
প্রতি আস্থাহীনদের পরিণতির কথা ব্যক্ত করেছেন। কাফিররা মহান আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্বে অবিশ্বাস প্রদর্শনপূর্বক আখিরাতের জবাবদিহিতার প্রতিও অনাস্থা প্রদর্শন করে ।
পবিত্র কুরআনের এসব বাণী এটাই প্রমাণ করে কুফরির শেষ পরিণাম হলো জাহান্নামের অনন্ত শাস্তি। সুতরাং সালাম সাহেবের দ্বিতীয় বক্তব্যে কাফিরদের পরিণতির কথা বর্ণিত হয়েছে।